মঙ্গলবার | ১১ আগস্ট, ২০২৬ | ২৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩

শিরোনাম

দুই মাদ্রাসার ফলাফল শুন্য, গড় পাশের হার ৪৬ ভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নাটোরের লালপুরে এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় দুই মাদ্রাসার একজনও পাশ করেনি। সম্মিলিত গড় পাশের হার প্রায় ৪৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬৮ জন শিক্ষার্থী।
সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) প্রকাশিত ফলাফলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে দেখা যায়, এসএসসি (মাধ্যমিক) শাখায় মোট ২ হাজার ৬০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ১৬৪ জন কৃতকার্য হয়েছে, যা শতকরা ৪৪.৭৬ ভাগ। অপরদিকে অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৪৩৬ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৫৫.২৪ শতাংশ। এ শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫৮ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৬.০৮ শতাংশ।
দাখিল পরীক্ষায় মোট ৩৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ৪২.৮১ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছে ২১৫ জন, অর্থাৎ ৫৭.১৯ শতাংশ। এ শাখায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ০.২৬ শতাংশ। উপজেলার মোহরকয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৩ জন এবং বিলমাড়ীয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
অন্যদিকে এসএসসি (ভোকেশনাল) শাখায় মোট ৭০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ৫১.৮৫ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছে ৩৩৭ জন বা ৪৮.১৫ শতাংশ। এই শাখায় ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১.২৯ শতাংশ।
সম্মিলিতভাবে তিনটি শিক্ষাক্রমে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৩ হাজার ৬৭৬ জন। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৬৮৮ জন, যা গড় পাশের হার প্রায় ৪৫.৯২ শতাংশ। অপরদিকে অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৯৮৮ জন, অর্থাৎ প্রায় ৫৪.০৮ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
মাদ্রাসায় শতভাগ ফেল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিলমাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুর রউফ জানান, ক্লাসে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ও পরীক্ষায় প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে এমন ফলাফল হয়েছে। তিনি আরও বলেন ২০০৪ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভূক্ত না হওয়ায় বিনা বেতনে মাদ্রাসায় শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এমন ফলাফলও হতে পারে। আগামীতে প্রতিষ্ঠানটিতে ফলাফল উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ওয়াজেদ আলী মৃধা বলেন, এবারের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ভোকেশনাল শাখায় শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো করেছে। তবে সাধারণ ও দাখিল শাখার ফল উন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ফলাফল ভালো করতে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা, মানসম্মত পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের মনিটরিং জোরদার করা হবে।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.