| |

শিরোনাম
বয়সে একাশি জাতিসংঘ নিজে কতটুকু পরিণত? নাটোরে শিশুর আঙুল কাটার অভিযোগে পুলিশ দম্পতি গ্রেপ্তার লালপুর ভূমি অফিসে আবারও চুরি, ডিভিআরসহ কম্পিউটার লুট বনপাড়া কলেজে ‘বিজনেস অ্যান্ড বেনিফিটস’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত বড়াইগ্রামে ৬২ পিস ইয়াবাসহ ২ জন প্রেফতার অনন্তকালের পথে শিশুসাহিত্যিক লালপুরের কৃতী আখতার হুসেন সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম —-আব্দুল আজিজ এমপি    আব্বা চলে যাওয়ার ১৮ বছর দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ সিসি ক্যামেরার নজরদারি, কবুতরের ঘরে আস্তানা; ওহিদুলের হ্যাকিং ও মাদক সাম্রাজ্যের সহযোগী পুলিশ কনস্টেবল

বয়সে একাশি জাতিসংঘ নিজে কতটুকু পরিণত?

-প্রফেসর ড. মো: ফখরুল ইসলাম।
১৯৪৫ সালের ২৬ জুন সান ফ্রান্সিসকোতে জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে যে বৈশ্বিক ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল, ২০২৬ সালে তার বয়স ৮১ বছর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বনেতারা এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের অভিশাপ থেকে রক্ষা করা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রতিষ্ঠা করা। ২০২৬ সালের ২৬ জুন জাতিসংঘের সনদ স্বাক্ষরের ৮১তম বার্ষিকী পালিত হয়েছ। একাশি বছর পর তাই জাতিসংঘ টিকে আছে, কিন্তু কতটা কার্যকর তা নিয়ে নানামুখি আলোচনা- সমালোচনা বেশ সরব এবং কোন কোন সময় এই আরও প্রাসঙ্গিক হিসেবে আবির্ভূত হয়ে পড়ে।
এসব আলোচনা- সমালোচনা জাতিসংঘের অস্তিত্ব নিয়ে সাধারণত: কেউ করেন না। বরং তার কার্যক্ষমতা, নৈতিক কর্তৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সামর্থ্য নিয়ে বেশী প্রশ্ন তোলা হয়ে থাকে। কারণ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ, দখল, গণহত্যা, শরণার্থী সংকট, ক্ষুধা, জলবায়ু বিপর্যয় ও মানবাধিকার লঙ্ঘন যখন অব্যাহত, তখন স্বাভাবিকভাবেই জানতে হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানটি আসলে কতটা করতে পারছে?
তবে জাতিসংঘকে শুধু যুদ্ধ থামানোর সক্ষমতা দিয়ে বিচার করাও ঠিক হবে না। শান্তিরক্ষা, মানবিক সহায়তা, শরণার্থী সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, শিশু অধিকার, উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক আইন ও উপনিবেশমুক্তির ক্ষেত্রে গত আট দশকে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘ যুদ্ধ ঠেকানোর প্রতিষ্ঠান, অথচ যুদ্ধ থামাতেই সে এখন বড় অসহায়। জাতিসংঘের মূল উদ্দেশ্যই ছিল আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা। কিন্তু আজকের পৃথিবীতে যুদ্ধের সংখ্যা, সংঘাতের বিস্তার এবং বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ দেখলে মনে হয়ে জাতিসংঘের সেই মূল দায়িত্ব কতটা সফল।
এর বড় কারণ নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স—এই পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের পক্ষে অধিকাংশ সদস্য ভোট দিলেও একটি স্থায়ী সদস্যের নেতিবাচক ভোট সেটি আটকে দিতে পারে। ফলে জাতিসংঘের কার্যকারিতা অনেক সময় আন্তর্জাতিক আইনের শক্তির চেয়ে পরাশক্তিগুলোর রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
এটি জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক বৈপরীত্য। একদিকে ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব; অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সিদ্ধান্তে পাঁচ রাষ্ট্রের বিশেষ ক্ষমতা। ১৯৪৫ সালের বিশ্বব্যবস্থায় এই কাঠামোর ঐতিহাসিক যুক্তি ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী প্রধান শক্তিগুলোকে জাতিসংঘের কাঠামোর মধ্যে ধরে রাখাই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু ৮১ বছর পর বিশ্ব অর্থনীতি, জনসংখ্যা, সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে গেছে। আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বহু দেশ এখন বৈশ্বিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ক্ষমতার কাঠামো মূলত একই রয়ে গেছে।
সম্প্রতি গাজা সংকট জাতিসংঘের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা দুটিই সামনে এনেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় গাজার যুদ্ধবিরতিকে ‘ভঙ্গুর’ হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং অঞ্চলটির পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা উঠে আসে। জাতিসংঘের ওই বৈঠকের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও গাজায় পুনরুদ্ধার কার্যক্রম তখনও দৃশ্যমানভাবে এগোয়নি।
এখানে জাতিসংঘের দুটি চেহারা দেখা যায়। একদিকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা খাদ্য, স্বাস্থ্য, আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে যুদ্ধের রাজনৈতিক সমাধান চাপিয়ে দেওয়ার মতো ক্ষমতা জাতিসংঘের নেই।
ইউক্রেন যুদ্ধও একই প্রশ্ন তুলেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ জাতিসংঘের আরেকটি কাঠামোগত দুর্বলতা সামনে এনেছে। নিরাপত্তা পরিষদের একটি স্থায়ী সদস্য যখন নিজেই সংঘাতের পক্ষ, তখন সেই রাষ্ট্রের ভেটো ক্ষমতা নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সীমাবদ্ধ করেছে।
জাতিসংঘের সমস্যা এখানেই। এটি বিশ্ব সরকার নয়। এর নিজস্ব সার্বভৌম সেনাবাহিনী নেই, নিজস্ব করব্যবস্থা নেই এবং সদস্যরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সম্মতি ছাড়া অধিকাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষমতাও সীমিত। তাই জাতিসংঘের ব্যর্থতা বিচার করতে গেলে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বও বিবেচনা করতে হবে।
তবে শান্তিরক্ষা করা হচ্ছে জাতিসংঘের সবচেয়ে দৃশ্যমান সাফল্য। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা, নির্বাচন সহায়তা, মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ, সাবেক যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে কাজ করে আসছেন।
কিন্তু শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। একটি শান্তিরক্ষা মিশনের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে ম্যান্ডেট, অর্থ, জনবল এবং সংঘাতের পক্ষগুলোর সহযোগিতার ওপর। শান্তিরক্ষী বাহিনী যুদ্ধরত পক্ষের মতো স্বাধীনভাবে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে না। অর্থাৎ শান্তিরক্ষী আর শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী এক জিনিস নয়।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অর্থায়নও এখন বড় সংকটে। আজকাল যুদ্ধের বাজেট বিপুল, শান্তির বাজেট সংকুচিত হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ২০২৪-২৫ অনুমোদিত বাজেট ছিল প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলার। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের বৈশ্বিক সামরিক ব্যয়ের তুলনায় এটি অর্ধ শতাংশেরও কম।
অর্থাৎ বিশ্ব যুদ্ধের জন্য যে বিপুল অর্থ ব্যয় করে, যুদ্ধ ঠেকানোর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় তার তুলনায় সামান্য অর্থই ব্যয় করে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ঘোষণা করেন যে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় একটি নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যার ফলে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ৯০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি এবং নিয়মিত বাজেটে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের অর্থ সংকট কিছুটা লাঘব হবে। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন সদস্যরাষ্ট্রগুলো সময়মতো ও পূর্ণ অর্থ না দিলে সংস্কার একা সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। এখানে প্রশ্নটি জাতিসংঘের চেয়ে বেশি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর উপর।
তবুও, মানবিক ক্ষেত্রে জাতিসংঘের ভূমিকা অস্বীকার করা যাবে না । শরণার্থী সুরক্ষা, খাদ্য সহায়তা, শিশু অধিকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষুধা নিরসন, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামো তৈরিতে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা বহু দশক ধরে কাজ করছে। জাতিসংঘের প্রকৃত শক্তি অনেক সময় রাজনৈতিক শিরোনামে দেখা যায় না। কোনো যুদ্ধ থামেনি, এটি সংবাদ হয়।
কিন্তু যুদ্ধের মধ্যেও লাখো মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছেছে, এটি তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত।
এ কারণে জাতিসংঘকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অন্তত তিনটি স্তর আলাদা করা দরকার। আর তা হচ্ছে, প্রথমত, যুদ্ধ প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন; দ্বিতীয়ত, সংঘাতের মধ্যে মানবিক সহায়তা; তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক মানদণ্ড তৈরি। প্রথম ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সীমাবদ্ধতা সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ক্ষেত্রে এর অবদান অনেক বেশি দৃশ্যমান।
তবুও ৮১ বছর পর সংস্কারই এখন বড় প্রশ্ন। জাতিসংঘ নিজেও বুঝতে পারছে যে পুরোনো কাঠামো দিয়ে নতুন বিশ্বের সব সংকট মোকাবিলা করা কঠিন। এই বাস্তবতায় ‘ইউএন ৮০’ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও কার্যকর, নমনীয় ও সক্ষম করার সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের বাজেট প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের প্রশাসনিক কাঠামো ও সম্পদ ব্যবহারে পরিবর্তনের প্রস্তাবও এসেছে।
কিন্তু প্রশাসনিক সংস্কারই যথেষ্ট নয়। প্রধান সংস্কার দরকার নিরাপত্তা পরিষদে। আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো, ভেটো ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে অধিকতর জবাবদিহি তৈরি করা এবং সাধারণ পরিষদের ভূমিকা আরও কার্যকর করা ইত্যাদি নতুন করে বিবেচনা করা দরকার। তবে সংস্কার সহজ নয়। কারণ বর্তমান কাঠামো থেকে সুবিধা পাওয়া রাষ্ট্রগুলোই সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এছাড়া নতুন এআই যুগের নতুন সংকট মোকাবেলা করতে জাতিসংঘ কতটা প্রস্তুত তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার যুদ্ধ, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, জলবায়ু উদ্বাস্তু, মহাকাশের সামরিকীকরণ, ডিজিটাল বিভ্রান্তি কিংবা জৈবপ্রযুক্তির নতুন ঝুঁকি বর্তমান মাত্রায় ছিল না।
আজ একটি সাইবার হামলা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারে কয়েক সেকেন্ডে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুদ্ধের চরিত্র পরিবর্তন করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন লাখো মানুষকে বাস্তুচ্যুত করতে পারে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ছোট দ্বীপরাষ্ট্রের অস্তিত্বের প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। এই নতুন সমস্যাগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক নিয়ম প্রয়োজন।
বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য জাতিসংঘের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন অর্থায়ন, শরণার্থী সংকট, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের মতো বিষয়ে জাতিসংঘ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।
বিশ্বশক্তিগুলোর দ্বন্দ্বের মধ্যে ছোট ও মাঝারি রাষ্ট্রগুলোর জন্য বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান একটি আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করে। জাতিসংঘ দুর্বল হলে এই রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক পরিসরও সংকুচিত হতে পারে।
অনেকে জানতে চাচ্ছেন, জাতিসংঘ ৮১ বছর টিকে আছে, কিন্তু ১৯৪৫ সালের ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে কি ২০২৬ সালের পৃথিবী পরিচালনা করা সম্ভব? জাতিসংঘকে যদি কেবল বক্তৃতার মঞ্চে পরিণত হতে না হয়, তাহলে নিরাপত্তা পরিষদে অধিকতর প্রতিনিধিত্ব, ভেটো ব্যবস্থায় জবাবদিহি, পর্যাপ্ত ও সময়মতো অর্থায়ন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সম্পদ এবং নতুন প্রযুক্তি ও জলবায়ু ঝুঁকির জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক বিধিব্যবস্থা দরকার।
কারণ বিশ্ব যদি এমন একটি প্রতিষ্ঠান চায়, যে প্রতিষ্ঠান যুদ্ধের সময় সবাইকে থামাবে, মানবিক বিপর্যয়ে সবাইকে সাহায্য করবে এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করবে তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানকে সেই ক্ষমতা, অর্থ ও রাজনৈতিক সমর্থনও দিতে হবে। তবে সেটা কি আদৌ সম্ভব?
*প্রফেসর ড. মো: ফখরুল ইসলাম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডীন। E-mail: [email protected]

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.