| |

শিরোনাম
কামরূপ-কামাখ্যার ভয়ংকর ও রহস্যময়তায় ঘেরা এক মায়াং গ্রাম ৭ই নভেম্বরের ঐতিহাসিক ও বর্তমান প্রেক্ষিত পিএইচপিতে সাইবারঝুঁকি ও বৃটেনে তিনদিনের রসদশঙ্কা প্রসঙ্গ লালপুরে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার বাউয়েটে ১৬তম ব্যাচ ও এমএ ইন ইংলিশ শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বড়াইগ্রামে চলনবিল পুনরুদ্ধার ও ভূমি-পানি সম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কঠোর আল্টিমেটাম ইউএনও-র  মেহমানের ব্যস্ততার ফাঁকে প্রাণ গেল দুই চাচাতো বোনের ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যার বিচার দাবি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বিনামূল্যে চিকিৎসায় ‘এলিট থেরাপি কেন্দ্র’ উদ্বোধন

৭ই নভেম্বরের ঐতিহাসিক ও বর্তমান প্রেক্ষিত

-প্রফেসর ড. মো: ফখরুল ইসলাম।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি ঘটনাবহুল ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা, সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক গতিপথে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটায়। দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার মাত্র চার বছরের মাথায় রাষ্ট্রীয় অস্থিরতা, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংকট, সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মধ্যে সিপাহি-জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। এ দিনের ঘটনাবলি পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ধারার পরিবর্তনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত হয়ে পড়ে।

তবে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য কেবল অতীতের একটি রাজনৈতিক ঘটনা স্মরণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার, সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রশ্নে এ দিবসের শিক্ষা আজও প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে জাতীয় সংহতি ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশার সঙ্গে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার তুলনামূলক মূল্যায়ন প্রয়োজন।

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনেক লম্বা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশ গভীর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটে পড়ে। খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। একই দিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। সেনাবাহিনীর ভেতরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ক্রমেই তীব্র হয়ে ওঠে।

এমন পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর ভোরে সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে বিদ্রোহ শুরু হয়। জাসদের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার নেতৃত্বে কর্নেল আবু তাহেরের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। বিদ্রোহী সৈনিকদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের একটি অংশ রাজপথে নেমে আসে। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। অভ্যুত্থানের ফলে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটে এবং জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রে চলে আসেন। তবে এ সময় কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন এবং পরবর্তী সময়ে কর্নেল তাহেরকে সামরিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ফলে ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে বিপ্লব, সংহতি, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও রক্তপাত, সবকিছুরই উপস্থিতি ছিল।

এই ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষের উদ্দেশ্য এক ছিল না। সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে বৈষম্য ও অসন্তোষ দূর করার আকাঙ্ক্ষা, জাসদের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পরিকল্পনা এবং জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক উদ্দেশ্য একই ঘটনাপ্রবাহে মিলিত হয়েছিল। ফলে ৭ নভেম্বরকে একমাত্রিকভাবে ব্যাখ্যা না করে এর বহুমাত্রিক রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি।

৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে জিয়াউর রহমানের মুক্তি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার এবং স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে তাঁর জাতীয় পরিচিতি ছিল। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক দর্শন সামনে নিয়ে আসেন।

তাঁর শাসনামলে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, বেসরকারি খাতের বিকাশ, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন, বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরেও স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরির প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে সার্ক প্রতিষ্ঠার ধারণা আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তা হলো, ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানে কর্নেল আবু তাহেরের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অথচ পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাহেরের রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিরোধ সৃষ্টি হয়। ১৯৭৬ সালে তাহেরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এই পরিণতি প্রমাণ করে, একই ঐতিহাসিক ঘটনার অংশীদারদের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সব সময় অভিন্ন থাকে না।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসটি বর্তমান ২০২৬ সালে এসে গুরুত্বের এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ৭ নভেম্বরকে পুনরায় রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৬ এপ্রিল মন্ত্রিসভার বৈঠকে দিবসটি পুনর্বহাল এবং সরকারি ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তী সময়ে ২২ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এটি ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবসের অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০২৬ সালের ৭ নভেম্বর ৫১তম বার্ষিকী রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।

এ সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। একটি ঐতিহাসিক দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের প্রত্যাশা পূরণ নয়; বরং দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে জাতীয় আলোচনায় ফিরিয়ে আনা। তবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অর্থ এই নয় যে, এ দিনের সব ঘটনা বা রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। বরং জাতীয় পর্যায়ে দিবসটি পালনের পাশাপাশি এর ইতিহাস নিয়ে মুক্ত, নিরপেক্ষ ও গবেষণাভিত্তিক আলোচনা নিশ্চিত করা উচিত।

বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ৭ নভেম্বরের শিক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান আমাদের দেখিয়েছে, জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থাকলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে। ১৯৭৫ ও ২০২৪ সালের ঘটনাবলির প্রেক্ষাপট এক নয়, কিন্তু উভয় অভিজ্ঞতাই রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য জনগণের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক বৈধতার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর এই বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, বিভিন্ন সময়ের গণ-আন্দোলনের মধ্যে জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা খুঁজে পাওয়া।

৭ নভেম্বরের প্রথম শিক্ষা হলো, জাতীয় সংকট মোকাবিলায় ঐক্য অপরিহার্য। রাজনৈতিক দল, মতাদর্শ, ধর্ম, ভাষা ও শ্রেণিগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে এক জায়গায় দাঁড়াতে হবে। তবে ঐক্য মানে একদলীয় কর্তৃত্ব কিংবা ভিন্নমত দমন নয়। প্রকৃত জাতীয় সংহতি গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে।

দ্বিতীয় শিক্ষা হলো, সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বাইরে রাখতে হবে। সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সংবিধান রক্ষার প্রতিষ্ঠান। এর পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড অক্ষুণ্ন রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা যেমন বিপজ্জনক, তেমনি সামরিক বাহিনীর সাংবিধানিক দায়িত্বের বাইরে রাষ্ট্র পরিচালনায় হস্তক্ষেপও গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তৃতীয় শিক্ষা হলো, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সংগঠন করার অধিকার এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ছাড়া জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করলে একসময় রাজনৈতিক অসন্তোষ ও অস্থিরতা তৈরি হয়। চতুর্থ শিক্ষা হলো, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ থেকে মুক্ত রাখতে হবে। প্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে। নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা, দক্ষতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আমরা জানি, অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া রাজনৈতিক সংহতি স্থায়ী হয় না। ১৯৭৫ সালের বাংলাদেশে খাদ্যসংকট, দুর্ভিক্ষ, দারিদ্র্য ও প্রশাসনিক দুর্বলতা মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছিল। বর্তমানেও বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, আয়বৈষম্য, দুর্নীতি ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা জাতীয় ঐক্যের পথে বাধা। শ্রমিক, কৃষক, তরুণ, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। উন্নয়নের সুফল সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছানো জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকার ও বিরোধী দল পরস্পরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হতে পারে, কিন্তু কেউ কারও শত্রু নয়। সংসদীয় গণতন্ত্র, স্বাধীন গণমাধ্যম, শক্তিশালী নাগরিক সমাজ এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই প্রকৃত জাতীয় সংহতি অর্জন সম্ভব। এজন্য উভয়কেই এই সময়ে বেশী সহনশীল ভূমিকা পালনে সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল। জনগণের সম্মতি, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানই নানা বাঁক ঘুরে একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার প্রকৃত ভিত্তি নির্ণয় করতে পারে।

তাই আজকের বাংলাদেশে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অঙ্গীকার হওয়া উচিত জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এমন বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে ক্ষমতার উৎস হবে জনগণ, রাষ্ট্র পরিচালিত হবে সংবিধান অনুযায়ী এবং রাষ্ট্রীয় সকল সম্পদ ব্যবহৃত হবে জনকল্যাণে।

* প্রফেসর ড. মো: ফখরুল ইসলাম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডীন। E-mail: [email protected]

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.