
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মানবিকতা, ভালোবাসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নাটোরের লালপুর উপজেলার ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়। পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বিদ্যালয়ের ১২০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে ২০২৬) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন ও হৃদয়স্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় এক মানবিক মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা সমাজের অবহেলার নয়, বরং ভালোবাসা ও মমতার দাবিদার। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” তিনি ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের এমন মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিমানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবির হোসেন, মাজার শরীফ টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ ইমাম হাসান মুক্তি, লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, সালাহ উদ্দীন, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিমানুর রহমান জানান, বিশ্বখ্যাত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএম-এর সিনিয়র কনসালটেন্ট প্রকৌশলী আব্দুল মালেক মিন্টুর সার্বিক অর্থায়নে এ ঈদসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি বলেন, “সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ যদি এভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে তাদের জীবন অনেক বেশি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের সন্তান। ঈদের সময় নতুন পোশাক বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়ার আনন্দ তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। এই হাসিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে ঈদসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এসময় অনেক অভিভাবক আবেগাপ্লুত হয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি আর আনন্দের উচ্ছ্বাস পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের আনন্দই বাড়ায় না, বরং সমাজে সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।