
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নাটোরের লালপুর উপজেলায় পদ্মা নদীতে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকা থেকে সাহাবুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার পদ্মা নদীর রাইটার চর এলকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সাহাবুল ইসলাম পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়া গোপালপুর গ্রামের ইউনুছ প্রামানিকের ছেলে। গত ৮ দিনে উপজেলার চরাঞ্চল থেকে এটি দ্বিতীয় গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনা।
থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ২ থেকে আড়াইটার মধ্যে ৫ থেকে ৬ জন অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী চর এলাকা থেকে মোটরসাইকেল যোগে এসে নদীর কিনারা সংলগ্ন এলাকায় এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় নৌকায় থাকা সাহাবুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ও তার সঙ্গে থাকা সহযোগী রবিউল ইসলাম (৩৭) আহত হন।
নিহতের সঙ্গে থাকা রবিউল ইসলাম পুলিশকে জানান, ঘটনার সময় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে নিরাপদ স্থানে চলে যান। এ ঘটনায় তার শরীর ও দুই হাতে সামান্য আঘাত লাগে। তবে হামলাকারীদের কাউকেই তিনি চিনতে পারেননি বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, ইতোমধ্যে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আহত রবিউল ইসলামের জবানবন্দিতে বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তি কোন সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য নাকি জেলে সেটা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। নদী এলাকা হওয়ায় ঘটনার খবর পেয়ে লক্ষীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. সেলিম মিয়া আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এসআই মো. সেলিম মিয়া বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি কালো রঙের শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ৯ জুন ২০২৬ উপজেলার চরজাজিরা চরে একটি স্পিডবোট থেকে আজিজুল হক ঝড়ু ওরফে ঝড়ু মাস্তান নামে গুলিবিদ্ধ এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উপজেলায় পদ্মার চরে বিভিন্ন গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন।
সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ/ উপসম্পাদক/ প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/১৭-০১