মঙ্গলবার | ২৩ জুন, ২০২৬ | ৯ আষাঢ়, ১৪৩৩

২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশব্যাপী আগামী ২৮ জুন (রবিবার) অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি। সরকারের এ উদ্যোগের আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৯ শিশু।
মঙ্গলবার ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলা পর্যায়ের প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন। এছাড়া ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সরকার ফারহানা কবীর, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আশিকুর রহমান, ডা. রিফাত শামীম, ডা. নূরেন মুবাশশিরা প্রভা ও ডা. ফাবলিনা নওশীন উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, সুস্থ, মেধাবী ও সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, অপুষ্টিজনিত ঝুঁকি কমাতে এবং শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কার্যকর ভূমিকা রাখে। এ সময় তিনি ঢাকায় টিকার কোনো সংকট নেই বলেও জানান।
পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো শিশুই যেন অপুষ্টিজনিত কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রচারণা কার্যক্রমে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে সম্পৃক্ত করার কথাও জানান তিনি।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান জানান, ঢাকা জেলায় ৬-১১ মাস বয়সী ৭৫ হাজার ১১৭ শিশুকে নীল রঙের (১ লাখ আইইউ) এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬৮২ শিশুকে লাল রঙের (২ লাখ আইইউ) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ জন্য জেলার ১ হাজার ৭৪৩টি কেন্দ্রে সেবা প্রদান করা হবে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬১৮টি আউটরিচ কেন্দ্র এবং ১২৫টি অতিরিক্ত কেন্দ্র রয়েছে। ভাসমান জনগোষ্ঠীর শিশুদের আওতায় আনতে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ও খেয়াঘাট এলাকায় বিশেষ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৩ হাজার ৪৮৬ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ২৯২ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ওয়ার্ডভিত্তিক মাইকিংয়ের পাশাপাশি মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে।
সিভিল সার্জন বলেন, সরকার সরবরাহকৃত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষাগারে গুণগত পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং এটি শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। তিনি অভিভাবকদের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ক্যাপসুল গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, রাতকানা ও অন্যান্য চোখের সমস্যা প্রতিরোধ, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং অপুষ্টিজনিত ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া হাম, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগজনিত জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি হ্রাসেও এটি সহায়ক।
অভিভাবকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিশুকে ভরাপেটে কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ক্যাপসুলের মুখ কেটে ভেতরের তরল অংশ শিশুকে খাওয়াবেন। কান্নারত বা জোরপূর্বক কোনো শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো যাবে না। ৬ মাসের কম বয়সী, ৫ বছরের বেশি বয়সী এবং অসুস্থ শিশুদের ক্যাম্পেইনের দিন ক্যাপসুল দেওয়া হবে না। তবে অসুস্থ শিশু সুস্থ হওয়ার পর নিকটস্থ স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্র থেকে ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ করতে পারবে।

সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ উপসম্পাদক /প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/২৩-১১

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.