
নাটোর প্রতিনিধি :
নাটোরের লালপুরে একদিনের ব্যবধানে একই পরিবারের শিশু দুই ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পর শিশু দুটির বাবা মরজেম আলীও অচেতন হয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া নতুনপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত শিশুদের মা মোছা. তুলি খাতুন লালপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।
নিহত দুই ভাই হলো, বিলমাড়িয়া মডেল একাডেমির দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তুহিন আলী (৮) ও তুষার আলী (৪)।
পুলিশ, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে গত ১৩ জুলাই স্ত্রী তুলি খাতুন বাবার বাড়িতে চলে গেলে চার দিন ধরে দুই ছেলে তুহিন আলী (৮) ও তুষার আলীকে (৪) নিয়ে বাড়িতে একাই বসবাস করছিলেন মরজেম আলী। ওই সময় তিনি নিজেই রান্নাবান্নাসহ সন্তানদের দেখাশোনা করতেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাতে তুহিন কলা ও চিড়া খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। অন্যদিকে মরজেম আলী ও ছোট ছেলে তুষার আলুভর্তা দিয়ে ভাত খান। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তুহিনের হঠাৎ বমি শুরু হলে স্বজনরা তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডাক্তার মো. সুরুজ্জামান শামীম।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় চকশেরপাড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে একই দিন দুপুরের দিকে ছোট ছেলে তুষারেরও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাত ৯টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে তুষারের মরদেহ বাড়িতে আনার পর শোকে ভেঙে পড়েন বাবা মরজেম আলী। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতাল এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। রোববার দুপুরে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার ভাতিজা শুভ আহমেদ।
এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন নিহত শিশুদের নানা হাবিবুর রহমান। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানান।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। এছাড়া ছোট ছেলে তুষারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রোববার নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রসঙ্গত, প্রায় আট মাস আগে মরজেম আলী ও তুলি খাতুনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। পরে তারা পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে সংসার শুরু করেন বলে জানিয়েছেন তুলির বাবা হাবিবুর রহমান।