| |

শিরোনাম
বয়সে একাশি জাতিসংঘ নিজে কতটুকু পরিণত? নাটোরে শিশুর আঙুল কাটার অভিযোগে পুলিশ দম্পতি গ্রেপ্তার লালপুর ভূমি অফিসে আবারও চুরি, ডিভিআরসহ কম্পিউটার লুট বনপাড়া কলেজে ‘বিজনেস অ্যান্ড বেনিফিটস’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত বড়াইগ্রামে ৬২ পিস ইয়াবাসহ ২ জন প্রেফতার অনন্তকালের পথে শিশুসাহিত্যিক লালপুরের কৃতী আখতার হুসেন সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম —-আব্দুল আজিজ এমপি    আব্বা চলে যাওয়ার ১৮ বছর দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ সিসি ক্যামেরার নজরদারি, কবুতরের ঘরে আস্তানা; ওহিদুলের হ্যাকিং ও মাদক সাম্রাজ্যের সহযোগী পুলিশ কনস্টেবল

গ্যাস বিস্ফোরণে স্বামী, স্ত্রী ও ছেলের মৃত্যু, লাশ আনার টাকা দিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী ও একমাত্র ছেলের মৃত্যু হয়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে তিনজনকে হারিয়ে পরিবারটি এখন নিঃস্ব। চিকিৎসার খরচ চালাতে জমানো অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের লাশ গ্রামের বাড়িতে আনার টাকাও ছিল না স্বজনদের হাতে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) সকালে এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন নাটোর-১ (লালপুর – বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন লালপুর উপজেলার বড়বাদকয়া গ্রামের মাইদুল ইসলাম (৩৮), তাঁর স্ত্রী বিউটি খাতুন (৩২) ও তাঁদের ছেলে মারুফ (৮)। আজ মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাইদুল। এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) তার ছেলে মারুফ ইসলাম এবং সোমবার তার স্ত্রী বিউটি খাতুন একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

মাইদুল বড়বাদকয়া গ্রামের মৃত ইয়াকুব ইসলাম পলানের ছেলে। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাঁর স্ত্রী বিউটি ছিলেন গৃহিণী। ছেলে মারুফ ছিল স্থানীয় চাপাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মাইদুলের মেজো ভাই রুহুল আমিন জানান, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাতটার দিকে বন্দর থানার চাপাতলী গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় বিস্ফোরণ ঘটে। সকালে সিগারেট ধরাতে মাইদুল গ্যাস লাইট জ্বালানোর পরপরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এতে ঘরে থাকা তিনজনই দগ্ধ হন।

বিস্ফোরণে মাইদুলের শরীরের ৮৫ শতাংশ, বিউটির ৯০ শতাংশ এবং মারুফের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাঁদের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে তিনজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও মাইদুলের মামা মো. কামাল হোসেন (৪০)।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসায় কোনো গ্যাসের সংযোগ ছিল না। বিস্ফোরণের কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।
স্বজনদের অভিযোগ, ওই এলাকায় অনেক অবৈধ গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। এসব সংযোগের কোনোটি থেকে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে তাদের ধারণা।
এদিকে মাইদুলের ভাই রুহুল আমিন বলেন, চিকিৎসার খরচ চালাতে তাঁদের জমানো সব টাকা শেষ হয়ে গেছে। এলাকার মানুষ চাঁদা তুলে চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করেছেন। এখন লাশ গ্রামের বাড়িতে আনার মতো অর্থও তাঁদের হাতে নেই।
পরে পরিবারটির আর্থিক সংকটের কথা জানতে পেরে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল লাশগুলো গ্রামের বাড়িতে আনার জন্য নগদ আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু বলেন, পরিবারটির করুণ অবস্থার কথা জানতে পেরে প্রতিমন্ত্রী তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর এমন মানবিক সহায়তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মাইদুলের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী।
কয়েক দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে বড়বাদকয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ /উপসম্পাদক /প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/১১-০১

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.