
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নাটোরের লালপুরের চিকিৎসা জগতের অনন্য ব্যক্তিত্ব সাবেক সিভিল সার্জন (সিএস) ডা. মো. মুজিবুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিন মেয়াদে প্রায় ১৪ বছর লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিবাগত রাত ৮টায় ঢাকায় নিজ বাসভবনে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) যোহরের নামাজ শেষে নাটোর পৌর জামে মসজিদ (মাদ্রাসা মোড় পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে) চত্বরে সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমানের জানাজা শেষে গাড়িখানা কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মো. মুজিবুর রহমান:
রাজশাহী বাঘায় ১৯৪৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন ডা. মো. মুজিবুর রহমান। পিতা মরহুম ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ ও মাতা মরহুম সায়রা খাতুন। স্ত্রী বিলকিস রহমান। তাঁদের সন্তান খালিদ মাহমুদ দিপু, তারিক মাহমুদ সজল, সাদিক মাহমুদ সোহেল, সেলিনা আক্তার কনা ও শামিমা আক্তার কাকলী।
তিনি কালিদাসখালি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি, কালিদাসখালি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে ম্যাট্রিকুলেশন, রাজশাহী কলেজ থেকে ১৯৬৪ সালে ইন্টারমিডিয়েট এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৭০ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি চাকরীকালীন স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
তিনি ১৯৭৫ সালের ৩০ জুন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম চাকরীতে যোগদান করেন। থানা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইইও) হিসেবে তিনি ৩০/০৬/১৯৭৫-১৯৮০, ১৯৮১-১৯৮৭ এবং ০৮/০৪/১৯৯১-১৮/০৮/১৯৯৩ পর্যন্ত তিন মেয়াদে প্রায় ১৪ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এই পদে তিনি ঈশ্বরদী, সিংড়া, নাটোর সদর ও বড়াইগ্রাম উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। সিভিল সার্জন হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে তিনি ঝালকাঠি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলায় দায়িত্ব পালন করে ২০০৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। চাকরীকালীন সময়ে তিনি অনেক অসহায়, দরিদ্র ও মেধাবীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন।
প্রকৃতিপ্রেমী, আমোদপ্রিয় ও সৌখিন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসপাতালে কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন ফল ও ফুলের গাছ লাগান। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় রোপিত ছোট গাছগুলোর বয়স প্রায় ৪৫ বছর। বিশেষ করে লাল টুকটুকে কৃষ্ণচূড়া ফুলগাছগুলো যেন স্বাগত জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে পথ চেয়ে অপেক্ষা করছে। গাছগুলো মানুষকে প্রকৃতির ছোঁয়া দেয়। হৃদয়ে ভালবাসার অনুভূতি যোগায়।
পাখি শিকারি আর মাছ ধরার নেশা এখনো তাঁকে তাড়িত করে। তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন।