
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নাটোরের লালপুরে থানা পুলিশের উদ্যোগে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় লালপুর থানা চত্বরে এ উপলক্ষে এক উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নাটোর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরীফুল হক।
তিনি স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশের সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) শোভন চন্দ্র হোড়, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ), পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সুজন মিয়া, আব্দুলপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) পুলিশ পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম এবং ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) পুলিশ পরিদর্শক মো. মনোয়ার জাহানসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিদ্দিক আলী মিষ্টু, অধ্যক্ষ ইমাম হাসান মুক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়াতে ওপেন হাউজ ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাদক, সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি ও প্রতারণা দমনে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। সবাই মিলে সচেতন হলে অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে। পুলিশ সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে এবং জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
এসপি আরও বলেন, বিট পুলিশিং জোরদার করে প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে এবং ওয়ারেন্ট তামিলসহ আইনগত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
সভায় লালপুর থানার বিটভিত্তিক কর্মকর্তাদের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নির্মূল, জুয়া, হ্যাকিং, প্রতারণা ও চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে সেবামুখী পুলিশিং জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অংশগ্রহণকারী স্থানীয়রা মাদক, চুরি, সড়কে যানজট, অনলাইন প্রতারণা ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তারা বলেন, পুলিশের টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হলে অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং জননিরাপত্তা বাড়বে। একই সঙ্গে থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও মানবিক আচরণের দাবি জানান তারা।