
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নাটোরের লালপুরে ফল ব্যবসার আড়ালে অভিনব কৌশলে (ডাবের পানি খাইয়ে) অজ্ঞান করে নগদ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত ‘অজ্ঞান পার্টির’ দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চেতনানাশক বিভিন্ন সামগ্রীসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে খুলনার বটিয়াঘাটা ও সোনাডাঙ্গা থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নাটোরের গুরুদাসপুরের ধারাবারিষার উদবাড়িয়া গ্রামের মো. আ. রাজ্জাকের ছেলে মো. ইমরান খান (৩৭)। তিনি খুলনার বটিয়াঘাটার হেতালবুনিয়া গ্রামের মো. বাদশা মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসরত। অপরজন খুলনার দাকুপের টিলভাঙ্গার বটবুনিয়া গ্রামের মো. আ. হানিফের ছেলে মো. আব্দুল মুসা (৪২)। তিনি খুলনার সোনাডাঙ্গার বানরগাতিয়ার ১২৭/১৩ তৃতীয় গলি মোছা. রোজীর বাড়ির জামাই হিসেবে বসবাসরত।
লালপুর থানার মামলা নং-১৯, তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ধারা ৩২৮/৩৭৯ পেনাল কোড, জিআর নং-২৬৩/২০২৬ (লালপুর) সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী উপজেলার গোপালপুর পৌরসভার মো. আব্দুল সোবাহান মালের ছেলে মো. রাসেল (২৬) ও চংধুপইল ইউনিয়নের ঈশ্বরপাড়া গ্রামের মো. আব্দুর রহমানের ছেলে মো. শামীম হোসেনের (৩৫) গোপালপুর রেল গেইট সংলগ্ন ‘ভাই ভাই ফল ভান্ডার’ নামে একটি যৌথ ফলের দোকান আছে। প্রতিদিনের ন্যায় গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সকাল ১১.০০ টার দিকে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি তাদের দোকানে এসে ফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। তাদের নিকট পাইকারী ফল বিক্রি করবে বলে তার নিকট থাকা ডাব, তরমুজ ও অন্যান্য ফলের কোয়ালিটি দেখান। সে প্রথমে তরমুজ ও অন্যান্য ফল কেটে দোকানীদের খেয়ে পরীক্ষা করার জন্য বলে এবং সে নিজেও খায়। দোকানীরা তা খেতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার নিকট থাকা ডাবের পানি পান করার জন্য বলে। ডাবের পানি পান করার কিছুক্ষনের মধ্যেই অচেতন হয়ে পড়লে দোকানীদের ব্যবসার নগদ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। আশেপাশের লোকজন তাদের অচেতন দেখে মাথায় ও মুখে পানি ঢেলে ৪/৫ ঘন্টার পর তারা সুস্থ হয়ে ঘটনার বিস্তারিত সকলকে জানায়। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি চেতনা নাশক ওষুধ মিশানো পানি পান করিয়ে টাকা চুরি করে চলে যায়। ফল বিক্রেতারা ঘটনার বিষয়ে আত্মীয়-স্বজনসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তাদের পরামর্শক্রমে থানায় এসে ওই দিনই এজাহার দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নি.) মো. মনিরুল ইসলাম মামলাটি তদন্তভার গ্রহন করে অজ্ঞাতনামা আসামীকে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালানার জন্য লালপুর থানার জিডি নং-১০৩৪, তারিখ-১৬/০৯/২০২৬ মূলে থানা হতে খুলনা জেলার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। খুলনা জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনাকালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পর্যাপ্ত তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে আসমী মো. ইমরান খান (৩৭) ও মো. আব্দুল মুসা (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়। বিধি মোতাবেক আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিক তদন্তকালে ঘটনার সাথে তাদের জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বিভিন্ন ছদ্মবেশে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ব্যবসায়ীসহ সকলকে অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার গ্রহণে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।