| |

সিসি ক্যামেরায় ঘেরা আস্তানা থেকে ‘হ্যাকিং সম্রাট’ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাড়ির চারপাশ থেকে প্রধান সড়ক পর্যন্ত বসানো হয়েছিল ২০টি সিসি ক্যামেরা। উদ্দেশ্য ছিল পুলিশের গতিবিধি আগেই টের পাওয়া। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে কথিত ‘হ্যাকিং সম্রাট’ ওহিদুল মোল্লা ওরফে ওহিদসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে নাটোরের লালপুর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ওহিদুল মোল্লা (৩২) উপজেলার মোহরকয়া গ্রামের মৃত রব্বেল মোল্লার ছেলে। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন—একই গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে মো. সাব্বির হোসেন (২৩), ভাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত বেলাল আলীর ছেলে মো. মোতাকাব্বির আলী (২৩), বিলমাড়িয়া গ্রামের মৃত কফের আলীর ছেলে মো. শুকুর আলী (৫০), পানসিপাড়া গ্রামের আতাহার প্রামাণিকের ছেলে মো. আলামিন (২৩) এবং রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর গ্রামের সামাদ মন্ডলের ছেলে মো. মুক্তার আলী (৩৪)।
থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ওহিদুলের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডি হ্যাক করে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৯টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, বিভিন্ন কোম্পানির ৬৮টি সিম কার্ড, ১০৬ পিস ইয়াবা, দুটি মোটরসাইকেল ও ৩২ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চক্রটি প্রবাসীদের ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের দেশের বাড়িতে টাকা পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট নম্বর হাতিয়ে নিত। পরে ওই নম্বরগুলোর শেষ চারটি ডিজিটের সঙ্গে মিল রেখে তারা নতুন নম্বর তৈরি করত। এরপর প্রবাসীদের পরিচিত বিকাশ এজেন্টদের বিভ্রান্ত করে এসব নম্বরে থাকা প্রতারকদের বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের টাকা পাঠাতে বলত। এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, ওহিদুলের বাড়ি থেকে প্রধান সড়ক পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানো ছিল। বাইরের গতিবিধি নজরদারিতে রাখার ব্যবস্থা থাকলেও গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ওসি আরও বলেন, হ্যাকিং ও প্রতারণার অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। একই অভিযানে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় ওহিদুল মোল্লা, মুক্তার আলী ও আলামিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক আরেকটি মামলা করা হয়েছে।

সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ /উপসম্পাদক/ প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/২৩-০১

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.