
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নাটোরের লালপুরে পদ্মার চরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে নাটোরের লালপুর, রাজশাহীর বাঘা, পাবনার ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ (পিপিএম) ও খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমের নির্দেশনায় এই অভিধান পরিচালিত হয়।
শুক্রবার দুপুরে লালপুর থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরীফুল হক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইফতে খায়ের আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) শোভন চন্দ্র হোড়, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ, পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহীম খলিলসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌরসভার মধুবাড়ী এলাকার ব্রজেন্দ্রনাথ লালের ছেলে অশিষ লাল ভৌমিক (৪৫), জোকাদহ গ্রামের হারেজ সরদারের ছেলে কামরুল সরদার (৩৫), টিটিয়া রাকসা এলাকার মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. সুজন (৩০), একই এলাকার ফরিদ শেখের ছেলে জুয়েল রানা (৪৪), অমরপুর এলাকার লোকমান হোসেনের ছেলে আকাশ হোসেন (২২) ও মো. লিখন (১৬), মোহরকয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে মো. নয়ন (৩৬), বেরিলাবাড়ি এলাকার মৃত খোদাবক্স প্রামাণিকের ছেলে মো. শাহ আলম (৪৫), একই এলাকার নুর আলমের ছেলে মো. মোস্তফা কামাল (৩৫) ও মৃত জনাব আলীর ছেলে মো. আজাহার আলী (৫০), কৃষ্ণপুর মালপাড়া গ্রামের আকছেদ আলীর ছেলে মো. পলাশ ইসলাম (২৫) ও মো. রুস্তম আলীর ছেলে মো. সম্রাট আলী (২৪) এবং বিরোপাড়া এলাকার মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. শাকিল হোসেন (৩৮)।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এসপি মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, লালপুরের পার্শ্ববর্তী রাজশাহীর বাঘা, পাবনার ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এলাকায় একটি অপরাধী চক্র গড়ে উঠেছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। চক্রটি অবৈধ বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধীরা লালপুর থেকে চলে যায় অথবা অপরাধ ছেড়ে দিতে হবে-যেকোনো একটি পথ বেছে নিতে হবে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অপরাধ থেকে সরে আসতে হবে। অন্যথায় তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধ দমনে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, অভিযানে ৫টি জেলা নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার প্রায় সাড়ে ৬০০ জন অফিসার ফোর্স অংশগ্রহন করেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। চরের নিয়ন্ত্রণ, বালুমহাল দখল, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, কৃষিজমির ফসল লুট এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় প্রায়ই গোলাগুলি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও চরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পাঁচ জেলার পুলিশ সমন্বিতভাবে অভিযান চালাচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গত বছরের নভেম্বরেও এসব চরাঞ্চলে একাধিক অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। সে সময় বেশ কয়েকজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। চরাঞ্চলে অপরাধমূলক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আবারও সমন্বিত অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।