| |

শিরোনাম
পদ্মা নদীতে অভিযানে কারেন্ট জাল ধ্বংস প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ ইয়াবা ও লাখ টাকাসহ দুই কারবারি গ্রেপ্তার চালককে জিম্মি করে রসুনভর্তি ভ্যান ডাকাতি পদ্মার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু বনলতা ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে পালানোর সময় গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২ কলকাতায় ‘সাহিত্য পদক’ পেলেন কবি হাসানুজ্জামান ও নিউটন বড়াইগ্রামে নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখছেন মিনতি রায় বড়াইগ্রামে নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখছেন মিনতি রায় বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি, মো. আশরাফুল ইসলাম(এমবিএ মার্কেটিং) নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে ও নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখছেন মিনতি রায়। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও নারী-স্বাস্থ্য বিষয়ে উঠান বৈঠক ও সেমিনারের মাধ্যমে দীর্ঘ্য ১২/১৩ বছর যাবত সচেতনামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহিনী মিনতি রায়। তিনি উপজেলার বনপাড়া মৃধাপাড়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী অখিল রায়ের স্ত্রী। তার ১২ বছর ৭ মাস বয়সে দরিদ্র পরিবারে বিয়ে হয়। তিনি ২ সন্তানের জননী। বাল্যকালে বিয়ে হওয়ায় যেসব অসুবিধার মুখোমুখি হয়েছেন, সেগুলো নিয়ে সচেতনামূলক উঠান বৈঠক শুরু করেন। উঠান বৈঠকে বাল্য বিয়ের কুফল, বাল্য বিয়ে বন্ধের প্রয়োজনীয়তা, বাল্য বিয়ে বন্ধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সেমিনার করেন পাশের গ্রাম গুনাইহাটি, ছাতিয়ানগাছা গ্রামে। নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখছেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের অধিকার রক্ষায় তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তিনি বিভিন্ন সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও উঠান বৈঠক পরিচালনা করেন। এছাড়া, নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে তিনি চিকিৎসকদের সহায়তায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করে আসছেন। তাঁর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের শত শত কিশোরী অকাল বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে এবং নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে জানতে পারছে। সংক্ষেপে বলা যায়, অনিকা রায়ের এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা সমাজে বাল্যবিবাহের হার কমাতে এবং নারী স্বাস্থ্যের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি সকল ধর্মের মানুষের কাছে বসেন ও তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনেন। ধীরে, ধীরে তাদের একত্রিত করে তিনি “আমরা স্বাধীন মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ ” নামে একটি সংগঠন তৈরী করলেন এবং তাদের নিয়ে সমাজ থেকে কিভাবে বাল্য বিবাহ দুর করা যায় সে বিষয়ে সেমিনার করেন। এক জন কন্যা শিশু অল্প বয়সে বিয়ে দিলে তার শরীর, মন ভেঙ্গে পড়ে, পিতা-মাতা ছেড়ে নতুন বাড়িতে গিয়ে সবার সাথে খাপখাইয়ে চলতে ব্যর্থ হয়, সংসারে নেমে আসে অশান্তি। ফলে পরিবারে সৃষ্টি হয় বিভাজন, কখনো বিচ্ছেদ। বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই গর্ভে আসে বাচ্চা। অপ্রাপ্ত বয়সে পড়তে হয় বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুকিতে। এ বিষয়গুলো তিনি তুলে ধরেন সেমিনারে। তার পরামর্শে অনেক বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে। নারী রোগাক্রান্ত রোগীদের নিয়ে সেচ্ছায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এসব সেবা প্রদান করায় তিনি এলাকার মহিলাদের হয়ে উঠেছেন মমতাময়ী মা। তিনি সফল উদ্যোক্তা। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে দক্ষ উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন ও সরকারী কার্যক্রমে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

পদ্মা নদীতে অভিযানে কারেন্ট জাল ধ্বংস

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় এক হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ ও ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬এর অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তরের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন নাটোরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী, লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ইবনে জামান মো. ফয়জুল কবীর, বাগাতিপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস. এম. মাহমুদুল হাসান ও লালপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয়া রাণী সরকারসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং লালপুর থানা পুলিশের সদস্যরা।

লালপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয়া রাণী সরকার বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ ও ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত সময়জুড়ে নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার করলে ইলিশের প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়। ইলিশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম বলেন, অভিযানে প্রায় এক হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে। মা ইলিশ সংরক্ষণ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে নদীতে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করা হবে। এ লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইন অমান্য করে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.