| |

শিরোনাম
বিনামূল্যে চিকিৎসায় ‘এলিট থেরাপি কেন্দ্র’ উদ্বোধন শুভ জন্মদিন প্রতিমন্ত্রী ফারজনা শারমীন পুতুল বাউয়েটের বড়াল হলের ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন বড়াইগ্রামে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত জাতীয় যুব পুরস্কার পেলেন এ এম রায়হান লালপুরে পাস করলেন প্রতারণার শিকার সেই দুই শিক্ষার্থী, ৪ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ শিশু বাচ্চাদের সাথে নিয়ে রাস্তার উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন প্রতিমন্ত্রী পুতুলের শেরে বাংলা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড পেলেন মোকছেদুল মোমিন সরকারের ভালো কাজ বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন সেক্টরে বসে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা ষড়যন্ত্র করছে- প্রতিমন্ত্রী পুতুল বিলমাড়ীয়া মডেল একাডেমীর যুগ পূর্তি ও কৃতী সংবর্ধনা

বিনামূল্যে চিকিৎসায় ‘এলিট থেরাপি কেন্দ্র’ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অর্থের অভাবে যেন কোনো অসহায় ও প্যারালাইজড (পক্ষাঘাতগ্রস্ত) রোগী ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন সেবা থেকে বঞ্চিত না হন-এমন মানবিক প্রত্যয় নিয়ে নাটোরের লালপুরে যাত্রা শুরু করেছে ‘এলিট থেরাপি কেন্দ্র’। এলিট ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ কেন্দ্রে সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন সেবা প্রদান করা হবে।

রোববার (২ নভেম্বর ২০২৬) এ কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উদ্যোগকে এলাকার অসহায়, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার ও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য আশার আলো হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্যোক্তারা জানান, সমাজের অনেক মানুষ অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন সেবা নিতে পারেন না। বিশেষ করে প্যারালাইজড রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যয় অনেক পরিবারের পক্ষে বহন করা কঠিন। এসব মানুষের কথা বিবেচনা করেই এলিট ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন বিনামূল্যে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। এর মাধ্যমে শারীরিকভাবে অসুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলিট ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. আশিকুর রহমান আশিক, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, ছায়া প্রতিবন্ধী অটিস্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সীমানুর রহমান, ফাউন্ডেশনের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আল আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাবের আল মাহমুদ আলভীসহ সুজন, বাপ্পি, অঞ্জন, জনি, সংগঠনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ।

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. আশিকুর রহমান আশিক বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এলিট ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। অর্থের অভাবে কোনো রোগী যেন প্রয়োজনীয় ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য-এই বিশ্বাস থেকেই আমাদের পথচলা। আজকের একজন অসহায় মানুষ যেন আগামী দিনে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, সেই প্রত্যাশায় আমরা কাজ করে যেতে চাই।’

অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন বালিতিতা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মো. হাসানুজ্জামান।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, পুনর্বাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ লালপুরে মানবিক ও সামাজিক সেবার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি, মো. আশরাফুল ইসলাম(এমবিএ মার্কেটিং) নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে ও নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখছেন মিনতি রায়। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও নারী-স্বাস্থ্য বিষয়ে উঠান বৈঠক ও সেমিনারের মাধ্যমে দীর্ঘ্য ১২/১৩ বছর যাবত সচেতনামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহিনী মিনতি রায়। তিনি উপজেলার বনপাড়া মৃধাপাড়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী অখিল রায়ের স্ত্রী। তার ১২ বছর ৭ মাস বয়সে দরিদ্র পরিবারে বিয়ে হয়। তিনি ২ সন্তানের জননী। বাল্যকালে বিয়ে হওয়ায় যেসব অসুবিধার মুখোমুখি হয়েছেন, সেগুলো নিয়ে সচেতনামূলক উঠান বৈঠক শুরু করেন। উঠান বৈঠকে বাল্য বিয়ের কুফল, বাল্য বিয়ে বন্ধের প্রয়োজনীয়তা, বাল্য বিয়ে বন্ধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সেমিনার করেন পাশের গ্রাম গুনাইহাটি, ছাতিয়ানগাছা গ্রামে। নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখছেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের অধিকার রক্ষায় তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তিনি বিভিন্ন সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও উঠান বৈঠক পরিচালনা করেন। এছাড়া, নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে তিনি চিকিৎসকদের সহায়তায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করে আসছেন। তাঁর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের শত শত কিশোরী অকাল বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে এবং নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে জানতে পারছে। সংক্ষেপে বলা যায়, অনিকা রায়ের এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা সমাজে বাল্যবিবাহের হার কমাতে এবং নারী স্বাস্থ্যের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি সকল ধর্মের মানুষের কাছে বসেন ও তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনেন। ধীরে, ধীরে তাদের একত্রিত করে তিনি “আমরা স্বাধীন মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ ” নামে একটি সংগঠন তৈরী করলেন এবং তাদের নিয়ে সমাজ থেকে কিভাবে বাল্য বিবাহ দুর করা যায় সে বিষয়ে সেমিনার করেন। এক জন কন্যা শিশু অল্প বয়সে বিয়ে দিলে তার শরীর, মন ভেঙ্গে পড়ে, পিতা-মাতা ছেড়ে নতুন বাড়িতে গিয়ে সবার সাথে খাপখাইয়ে চলতে ব্যর্থ হয়, সংসারে নেমে আসে অশান্তি। ফলে পরিবারে সৃষ্টি হয় বিভাজন, কখনো বিচ্ছেদ। বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই গর্ভে আসে বাচ্চা। অপ্রাপ্ত বয়সে পড়তে হয় বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুকিতে। এ বিষয়গুলো তিনি তুলে ধরেন সেমিনারে। তার পরামর্শে অনেক বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে। নারী রোগাক্রান্ত রোগীদের নিয়ে সেচ্ছায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এসব সেবা প্রদান করায় তিনি এলাকার মহিলাদের হয়ে উঠেছেন মমতাময়ী মা। তিনি সফল উদ্যোক্তা। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে দক্ষ উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন ও সরকারী কার্যক্রমে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.