
নিজস্ব প্রতিবেদক :
মেহমান এসেছেন বাড়িতে। পরিবারের সবাই ব্যস্ত তাঁদের আপ্যায়নে। এরই মধ্যে বাড়ির আঙিনায় খেলছিল দুই চাচাতো বোন মোছা. আফিয়া খাতুন (৩) ও মোছা. শিউলি আক্তার (৪)। কিছুক্ষণ পর তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে ভেসে ওঠে দুই শিশুর নিথর দেহ। মুহূর্তেই আনন্দমুখর বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া।
নাটোরের লালপুর উপজেলার বেরিলাবাড়ি গ্রামে সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আফিয়া খাতুন একই গ্রামের আনারুল ইসলামের একমাত্র মেয়ে। আর শিউলি আক্তার আনারুলের ছোট ভাই সিরাজুল ইসলামের ছোট মেয়ে। দুই শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তাদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনারুল ইসলামের শ্যালিকা বাড়িতে বেড়াতে আসায় পরিবারের সদস্যরা মেহমানদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার পর দুই শিশুকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে তাঁদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনেরা। একপর্যায়ে শিশুদের মা বাড়ির পাশের পুকুরে তাঁদের ভাসমান মরদেহ দেখতে পান। পরে দ্রুত উদ্ধার করে দুই শিশুকে পাশের বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পুকুরটিতে তিনি নিজে মাছ চাষ করেন। পুকুরের পাশেই ভুক্তভোগী পরিবারের রান্নাঘর রয়েছে। বাড়িতে মেহমান ছিলেন। খেলাধুলার কোনো একপর্যায়ে হয়তো দুই শিশু পুকুরে পড়ে যায়।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুই শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে বেরিলাবাড়ি গ্রামে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। যে বাড়িতে মেহমানের আগমনে ছিল ব্যস্ততা, সেই বাড়িতেই এখন স্বজনদের আহাজারি।
সসম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ/ উপসম্পাদক/ প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/০১-০৩