| |

শিরোনাম
নিজ উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার বিএনপি নেতার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় আ.লীগের চার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের সঙ্গে জেনাস স্যোসাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশনের মতবিনিময় নাটোরের লালপুরে গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়া খানকা শরীফের শুভ উদ্বোধন রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ মাদক, নগদ টাকাসহ দুই কারবারি গ্রেপ্তার বড়াইগ্রামে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২০ লালপুরে চালু হচ্ছে ‘ফিউচার মাইন্ড স্কুল’ বড়াইগ্রামে জমির বিক্রি না করায় বৃদ্ধকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ শীতের পরশে জেগে উঠছে খেজুরগাছ, লালপুরে গুড়ে ৬৪ কোটি টাকার সম্ভাবনা লালপুরে বাড়ি-দোকানে হামলা, বৃদ্ধাকে কুপিয়ে ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ

লালপুরে স্বাস্থ্য সেবায় সংযোজন হচ্ছে পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল

নাটোর প্রতিনিধি :
নাটোরের লালপুরে পদ্মা ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সেবায় সংযোজন হচ্ছে পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল। এ উপলক্ষে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সর্বসাধারণের জন্য হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শন, সুধী সমাবেশ ও মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয় ।
শনিবার (৯ ডিসেম্বর ২০২৩) কাঙ্খিত-মানসম্মত এ হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন সাবেক যুগ্মসচিব এনামুল হক জহুর, লালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইসাহাক আলী, লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন ঝুলফু, লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এ কে এম শাহাব উদ্দিন, বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. আব্দুর রাজ্জাক, বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. আসাদুজ্জামান, লালপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খন্দকার মো. শরিফুল ইসলাম, লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সুরুজ্জামান শামীম, লালপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ওয়াজেদ আলী মৃধা, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সা’দ আহমাদ শিবলী, উত্তরা ব্যাংকের ম্যানেজার মো. আক্তার হোসেন, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি খায়রুল বাসার ভাদু, ইউপি চেয়ারম্যান ছিদ্দিক আলী মিষ্টু, আব্দুল আজিজ রঞ্জু, লালপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাজদার রহমান, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিপেন্দ্রনাথ সাহাসহ ডাক্তার নার্স, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, আইনজীবী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকার সর্বস্তরের নারী পুরুষ হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। হাসপাতালটি পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এরমধ্যে হাসপাতালটির শতভাগ অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানুজ্জামান টিপু জানান, লালপুরে চিকিৎসা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এ হাসপাতালে থাকবে আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ নানান সুবিধা। আর খরচও থাকবে সর্বসাধারণের নাগালের মধ্যে।
তিনি আরো জানান, এ হাসপাতালে একটি পুরুষ ওয়ার্ড ও একটি মহিলা ওয়ার্ডসহ রয়েছে অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, ডেলিভারি বিভাগ, ডেন্টাল বিভাগ, দুটি সাধারণ ও দুটি ভিআইপি কেবিন। হাসপাতালটিতে আরো থাকছে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ফিজিওথেরাপি বিভাগ। হরমোনসহ প্যাথলজিক্যাল সকল পরীক্ষা, ইসিজি, ইকো কার্ডিওগ্রাফিসহ বিভিন্ন ধরনের ডায়াগনস্টিক সুবিধা। এছাড়াও এ হাসপাতালে শিশু, চর্ম, যৌন-সেক্স ও এলার্জি, অর্থোপেডিক, মেডিসিন, হৃদরোগ, গাইনি, নাক কান গলা, চক্ষু ও নিউরো মেডিসিন, সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ প্রতিনিয়ত রোগী দেখবেন। এ সময় তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।


বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি, মো. আশরাফুল ইসলাম(এমবিএ মার্কেটিং) নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে ও নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখছেন মিনতি রায়। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও নারী-স্বাস্থ্য বিষয়ে উঠান বৈঠক ও সেমিনারের মাধ্যমে দীর্ঘ্য ১২/১৩ বছর যাবত সচেতনামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহিনী মিনতি রায়। তিনি উপজেলার বনপাড়া মৃধাপাড়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী অখিল রায়ের স্ত্রী। তার ১২ বছর ৭ মাস বয়সে দরিদ্র পরিবারে বিয়ে হয়। তিনি ২ সন্তানের জননী। বাল্যকালে বিয়ে হওয়ায় যেসব অসুবিধার মুখোমুখি হয়েছেন, সেগুলো নিয়ে সচেতনামূলক উঠান বৈঠক শুরু করেন। উঠান বৈঠকে বাল্য বিয়ের কুফল, বাল্য বিয়ে বন্ধের প্রয়োজনীয়তা, বাল্য বিয়ে বন্ধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সেমিনার করেন পাশের গ্রাম গুনাইহাটি, ছাতিয়ানগাছা গ্রামে। নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখছেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের অধিকার রক্ষায় তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তিনি বিভিন্ন সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও উঠান বৈঠক পরিচালনা করেন। এছাড়া, নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে তিনি চিকিৎসকদের সহায়তায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করে আসছেন। তাঁর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের শত শত কিশোরী অকাল বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে এবং নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে জানতে পারছে। সংক্ষেপে বলা যায়, অনিকা রায়ের এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা সমাজে বাল্যবিবাহের হার কমাতে এবং নারী স্বাস্থ্যের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি সকল ধর্মের মানুষের কাছে বসেন ও তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনেন। ধীরে, ধীরে তাদের একত্রিত করে তিনি “আমরা স্বাধীন মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ ” নামে একটি সংগঠন তৈরী করলেন এবং তাদের নিয়ে সমাজ থেকে কিভাবে বাল্য বিবাহ দুর করা যায় সে বিষয়ে সেমিনার করেন। এক জন কন্যা শিশু অল্প বয়সে বিয়ে দিলে তার শরীর, মন ভেঙ্গে পড়ে, পিতা-মাতা ছেড়ে নতুন বাড়িতে গিয়ে সবার সাথে খাপখাইয়ে চলতে ব্যর্থ হয়, সংসারে নেমে আসে অশান্তি। ফলে পরিবারে সৃষ্টি হয় বিভাজন, কখনো বিচ্ছেদ। বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই গর্ভে আসে বাচ্চা। অপ্রাপ্ত বয়সে পড়তে হয় বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুকিতে। এ বিষয়গুলো তিনি তুলে ধরেন সেমিনারে। তার পরামর্শে অনেক বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে। নারী রোগাক্রান্ত রোগীদের নিয়ে সেচ্ছায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এসব সেবা প্রদান করায় তিনি এলাকার মহিলাদের হয়ে উঠেছেন মমতাময়ী মা। তিনি সফল উদ্যোক্তা। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে দক্ষ উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন ও সরকারী কার্যক্রমে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.