| |

শিরোনাম
বাউয়েটের বড়াল হলের ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন বড়াইগ্রামে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত জাতীয় যুব পুরস্কার পেলেন এ এম রায়হান লালপুরে পাস করলেন প্রতারণার শিকার সেই দুই শিক্ষার্থী, ৪ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ শিশু বাচ্চাদের সাথে নিয়ে রাস্তার উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন প্রতিমন্ত্রী পুতুলের শেরে বাংলা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড পেলেন মোকছেদুল মোমিন সরকারের ভালো কাজ বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন সেক্টরে বসে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা ষড়যন্ত্র করছে- প্রতিমন্ত্রী পুতুল বিলমাড়ীয়া মডেল একাডেমীর যুগ পূর্তি ও কৃতী সংবর্ধনা সাংবাদিক এস এম রাজার জন্মদিনে কবিতা পাঠ ও সুরের মেলা নবেসুমির আখ মাড়াই শুরু শুক্রবার

রাজনৈতিক ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় ইমো হ্যাকার চক্রের দৌরাত্ম

নাটোর প্রতিনিধি :
নাটোরের লালপুরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় ইমো হ্যাকার চক্রের দৌরাত্ম অব্যাহত রয়েছে। ‘ইমো হ্যাকার’ ও ব্যাংক রিসিট প্রতারক চক্রের সদস্য লালপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান সরকারের ছেলে ও নাটোর জেলা ছাত্রদলের সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক এস এম শাহরিয়ার পারভেজ পল্লবসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে সেনাবাহিনী। রোববার আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে নাটোর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (২৪ মে ২০২৫) দিবাগত রাত ৮ টার দিকে উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামের ফিরোজ আলীর ছেলে মুশফিকুর রহিম প্রান্ত (১৮), লালপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান সরকারের ছেলে ও নাটোর জেলা ছাত্রদলের সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এস এম শাহরিয়ার পারভেজ পল্লব (৩১) এবং জিয়া সরকারের ছেলে জাহিদ হাসান জীবন (১৯)।
জানা যায়, অভিযানকালে তাদের নিকট থেকে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, একটি ল্যাপটপ ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। প্রথমিক জিজ্ঞাসা শেষে তাদেরকে লালপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. মমিনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃতদের থেকে কয়েকটি মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, একটি ল্যাপটপ ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। রোববার আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে নাটোর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ছত্রছায়া, মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টদের সহায়তা ও প্রশাসনের নিরবতায় নাটোরের লালপুরে ২০১৪ সাল থেকে নির্ভয়ে হ্যাকিং কার্যক্রম চলে আসছে। ফলে হ্যাকিংয়ের সদর দপ্তর খ্যাত উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন থেকে এখন পাশ্ববর্তী ইউনিয়ন ও উপজেলার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে হ্যাকিং কার্যক্রম। আতঙ্কের বিষয় হল এ চক্রের অধিকাংশ সদস্য অল্প বয়সী কিশোর ও যুবক। গ্রামের উঠতি বয়সী এ সকল কিশোর, যুবক ও ঝরে পড়া স্কুল শিক্ষার্থীরা ইমো হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে টাকা উপার্জন করছে। হ্যাকিংয়ের টাকা দিয়ে তারা কিনছে উচ্চমূল্যে জমি, নামি ব্র্যান্ডের দামি গাড়ি, তৈরি করছে বিলাসবহুল বাড়ি ও আসবাবপত্র। অভিভাবকরাও অর্থের প্রলোভনে এই অবৈধ কাজকে সমর্থন করছেন। অনেকে এখন এই অবৈধ হ্যাকিংকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হ্যাকিংয়ে জড়িতরা সাধারণত দিনে ঘুমায়। বিকেলে তারা মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে বাঘা উপজেলার আলাইপুর ও মিরগঞ্জের বিভিন্ন মাদক বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে যায়। মাদক সেবন শেষে তারা নির্দিষ্ট চা স্টলে যাত্রা বিরতি করে। তাদের সুবিধার্থে সেখানে রয়েছে গোপনীয় (বিশেষ) চেম্বার।
লালপুরের একজন ইলেকট্রিসিয়ান বলেন, উপজেলার ঝরে পড়া অনেক শিক্ষার্থী, ইজিবাইক ও পাওয়ার টিলার চালকরা ইমো হ্যাকিং করে এখন কোটিপতি। অথচ কিছুদিন আগেও তারা কিংবা তাদের অভিভাবকরা দিন মজুর ও ভ্যান চালাতো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হ্যাকার বলেন, তারা সাধারণত প্রবাসী ও ধনী ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে কৌশলে তাদের ইমু কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হ্যাক করে অর্থ হাতিয়ে নেন। এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব নম্বর ব্যবহার করে থাকেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্টরা ২০-৩০% কমিশনে হ্যাকারদের টাকা উত্তোলনে সাহায্য করে থাকেন।
আরেক হ্যাকার বলেন, হ্যাকিংয়ের সাথে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশরাও জড়িত। প্রতি মাসে তাদের চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে টাকা দিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করা হয়। এজন্য হ্যাকারদের একাধিক গোপন সংগঠন রয়েছে। কেউ আটক হলে কিংবা আইনি ঝামেলায় পড়লে অন্যরা তাকে মুক্ত করে আনে। তাদের কাছে টাকা কোন ফ্যাক্ট নয়।
মাদক সেবনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রাত জেগে কাজ করার জন্য গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য হ্যাকিংয়ের একটি অনুসঙ্গ হিসেবে সেবন করা হয়। এক্ষেত্রে হ্যাকারদের দুইভাগে ভাগ করা হয়। যারা শিক্ষানবিশ হ্যাকার, তারা সাধারণত গাঁজা সেবন করে। আর যারা হ্যাকিংয়ে দক্ষতা অর্জন করে, তারা ফেনসিডিল ও ইয়াবা সেবন করে। হ্যাকিংয়ে প্রতি মাসে গড়ে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা হ্যাক করতে পারলে তাকে দক্ষ হ্যাকার ধরা হয়।
এ বিষয়ে বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু বলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিন্টু হ্যাকারদের আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বর্তমানে পুলিশের নিরবতায় নির্ভয়ে হ্যাকিং কার্যক্রম চলছে।
সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান মিন্টু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লালপুরের বিলমাড়িয়াতে ২০১৪-১৫ সাল থেকে ইমু হ্যাকিং শুরু হয়। আমি কঠোর হাতে ইমু হ্যাকারদের দমন করার চেষ্টা করলে সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ আমাকে হত্যার হুমকি দেন। তারপরও আমি হ্যাকারদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিলাম।
আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে হ্যাকিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে থানায় ৪টি মামলা হয়। এরপর আর কোন মামলা হয়নি। উল্লেখ্য, ২০২২ ও ২০২৩ সালে গণমাধ্যমে ইমু হ্যাকিং নিয়ে ব্যাপক সংবাদ প্রচার হলে প্রশাসনের তৎপরতায় হ্যাকিং কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু ২০২৪ সাল থেকে প্রশাসনের রহস্যময় নিরবতায় আবার হ্যাকার চক্রগুলোর দৌরাত্ম বাড়ে।
এ বিষয়ে লালপুর থানার (ওসি-তদন্ত) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, লালপুর উপজেলায় যে সমস্ত হ্যাকার রয়েছে তারা সাধারণত অন্য জেলার মানুষ ও প্রবাসীদের আইডি হ্যাক করে টাকা আত্মসাৎ করে থাকে। ভুক্তভোগীরা অনেক সময় মামলা করে না কিংবা করলেও তাদের নিজস্ব থানায় মামলা করে থাকেন। এতে লালপুর থানা থেকে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে সকলকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান তিনি।


বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি, মো. আশরাফুল ইসলাম(এমবিএ মার্কেটিং) নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে ও নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখছেন মিনতি রায়। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও নারী-স্বাস্থ্য বিষয়ে উঠান বৈঠক ও সেমিনারের মাধ্যমে দীর্ঘ্য ১২/১৩ বছর যাবত সচেতনামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহিনী মিনতি রায়। তিনি উপজেলার বনপাড়া মৃধাপাড়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী অখিল রায়ের স্ত্রী। তার ১২ বছর ৭ মাস বয়সে দরিদ্র পরিবারে বিয়ে হয়। তিনি ২ সন্তানের জননী। বাল্যকালে বিয়ে হওয়ায় যেসব অসুবিধার মুখোমুখি হয়েছেন, সেগুলো নিয়ে সচেতনামূলক উঠান বৈঠক শুরু করেন। উঠান বৈঠকে বাল্য বিয়ের কুফল, বাল্য বিয়ে বন্ধের প্রয়োজনীয়তা, বাল্য বিয়ে বন্ধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সেমিনার করেন পাশের গ্রাম গুনাইহাটি, ছাতিয়ানগাছা গ্রামে। নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখছেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের অধিকার রক্ষায় তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তিনি বিভিন্ন সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও উঠান বৈঠক পরিচালনা করেন। এছাড়া, নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে তিনি চিকিৎসকদের সহায়তায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করে আসছেন। তাঁর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের শত শত কিশোরী অকাল বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে এবং নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে জানতে পারছে। সংক্ষেপে বলা যায়, অনিকা রায়ের এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা সমাজে বাল্যবিবাহের হার কমাতে এবং নারী স্বাস্থ্যের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি সকল ধর্মের মানুষের কাছে বসেন ও তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনেন। ধীরে, ধীরে তাদের একত্রিত করে তিনি “আমরা স্বাধীন মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ ” নামে একটি সংগঠন তৈরী করলেন এবং তাদের নিয়ে সমাজ থেকে কিভাবে বাল্য বিবাহ দুর করা যায় সে বিষয়ে সেমিনার করেন। এক জন কন্যা শিশু অল্প বয়সে বিয়ে দিলে তার শরীর, মন ভেঙ্গে পড়ে, পিতা-মাতা ছেড়ে নতুন বাড়িতে গিয়ে সবার সাথে খাপখাইয়ে চলতে ব্যর্থ হয়, সংসারে নেমে আসে অশান্তি। ফলে পরিবারে সৃষ্টি হয় বিভাজন, কখনো বিচ্ছেদ। বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই গর্ভে আসে বাচ্চা। অপ্রাপ্ত বয়সে পড়তে হয় বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুকিতে। এ বিষয়গুলো তিনি তুলে ধরেন সেমিনারে। তার পরামর্শে অনেক বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে। নারী রোগাক্রান্ত রোগীদের নিয়ে সেচ্ছায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এসব সেবা প্রদান করায় তিনি এলাকার মহিলাদের হয়ে উঠেছেন মমতাময়ী মা। তিনি সফল উদ্যোক্তা। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে দক্ষ উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন ও সরকারী কার্যক্রমে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.