শুক্রবার | ২৬ জুন, ২০২৬ | ১২ আষাঢ়, ১৪৩৩

শিরোনাম
লালপুরে জনসেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক বড়াইগ্রামে ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানী ৩০ হাজার টাকায় মিমাংসার নামে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিলেন বিএনপি নেতারা চিত্রা এক্সপ্রেসে অভিযান: ঈশ্বরদীতে ৭৬ বোতল কোডিন সিরাপসহ নারী গ্রেফতার বড়াইগ্রামে ‘দুর্নীতিই একমাত্র জাতীয় উন্নয়নের অন্তরায়’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন লালপুরে ভাইরাল ভিডিও মামলার মূল আসামি গ্রেপ্তার লালপুরে পদ্মার চরে নৌকা থেকে গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার লালপুরে কৃষিজমির মাটি কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা লালপুরে পাট চাষে ফিরছে সুদিন, বাম্পার ফলনের আশা ইটভাটা মালিকদের মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন

বড়াইগ্রামে ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানী ৩০ হাজার টাকায় মিমাংসার নামে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিলেন বিএনপি নেতারা

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের বড়াইগ্রামে ৮ম শ্রেণীর এক স্কুল শিক্ষার্থীকে (১২) শ্লীলতাহানী করার অভিযোগ উঠেছে আহাদ আলী নামে এক কবিরাজের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতা কর্মীরা ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার কথা বললেও নিজেরা নেই টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা মাঝগাও ইউনিয়নের তিরাইল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। কবিরাজ আহাদ আলী উপজেলার তিরাইল মোল্লা পাড়া গ্রামে বহুত আলীর ছেলে। ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা হলেন, তিরাইল গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি কর্মী রুহুল আমিন ও মাঝগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক খোকন আহমেদ।
ওই শিক্ষার্র্থীর মা জানান, আহাদ আলী কবিরাজ আমার প্রতিবেশী। আমার মেয়ে তাকে চাচা বলে ডাকে। তার বাড়ির পাশ দিয়ে আশার সময় আমার মেয়েকে ডেকে নিয়ে যায় আহাদ আলী। এসময় ঝাড় ফুঁ দেওয়ার কথা বলে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে ধর্ষনের চেষ্টা করে। মেয়েটি চিৎকার দিলে করিরাজ ছেড়ে দেয়। আমার মেয়ে দৌড়ে পালিয়ে আসে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতা রুহুল আমিন ও খোকন আহমেদ নেতেৃত্বে শালিস বসে। শালিসে আহাত আলী স্বীকার করলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আহাদ আলী ক্ষমা প্রার্থনা করে জরিমানা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারন করা হয়। তিনদিন পরে মাঝগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক খোকন আহমেদের কাছে সেই টাকা জমা দেয় আহাদ আলী। কিন্তু সেই টাকা বেশ কয়দিন পার হলেও তারা পায় নাই।
মেয়েটির মা আরো বলেন, আমার ছোট মেয়ের সাথে এমন ঘটনা ঘটানো হলো। আমি এই ঘটনার বিচার চাই। সমাজ প্রধানদের নিকট বিচার দেওয়ার পর তারা এই বিচার করল। এটি কোন বিচার হলো। তারা আমাকে পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে দিচ্ছে না।
রুহুল আমিন বলেন, স্থানীয় ভাবে বসে বিচার করা হয়েছে। এই ধরনের বিচার করার বিধান আমার জানা ছিলো না। সমাজ প্রধানদের বিচারে আহাদ আলী স্বীকার করায় তাকে জরিমানা ও আর কোনদিন কবিরাজি করবে না মর্মে মুচলেকা দেওয়ার কথা হয়েছে। আর টাকা খোকনের কাছে জমা আছে। মেয়েটির পরিবার কাগজপত্রে স্বাক্ষর দিলেই টাকা পেয়ে যাবে।
আহাদ আলী বলেন, আমি একটি ভুল করেছিলাম। নিজের মেয়ে মনে করে টাকা খোকনের নিকট জমা দিয়েছি।
খোকন আহমেদ বলেন, আমার কাছে কেউ টাকা জমা দেয় নাই। আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না। মেয়েটির পরিবার আমার আত্বীয় হওয়ায় ডেকে ছিল। আমি বিচার না বসে চলে আসছি।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, লিখিত পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.