
নিজস্ব প্রতিবেদক।। লালপুরে ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণা চালানো একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে হ্যাকিং ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২৪আগস্ট) দুপুরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন উপজেলার জোতগৌরী গ্রামের আসলাম আলীর ছেলে রাজীব আলী (২৭) ও চান্দের আলীর ছেলে সোহেল রানা (১৯)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি অভিনব কৌশলে দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ, বিশেষ করে প্রবাসীদের টার্গেট করে প্রতারণা করে আসছিল। চক্রের সদস্যরা প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে যোগাযোগ স্থাপন করত। অনেক ক্ষেত্রে নারীর কণ্ঠ নকল করে বা মেয়ের পরিচয়ে কথা বলে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করত। বিশ্বাস অর্জনের পর তারা বিভিন্ন কৌশলে ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল নম্বর, ভেরিফিকেশন কোড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হাতিয়ে নিত। এরপর হ্যাক করা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের কাছে জরুরি প্রয়োজনে টাকা চাওয়ার নামে প্রতারণা চালাতো। এভাবে তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালপুর থানার এসআই মো. আল মাসুম সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) ভোর সোয়া ৪টার দিকে উপজেলার জোতগৌরী গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, জব্দকৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে চক্রটির প্রতারণার পদ্ধতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং সোমবার দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড বা ভেরিফিকেশন কোড শেয়ার করা উচিত নয়। এ ধরনের অসতর্কতা থেকেই অধিকাংশ সাইবার প্রতারণার ঘটনা ঘটে থাকে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করে দুপুরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সম্পাদনায়: আ.স/প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ ২৪/০৮/২০২৬।