
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নাটোরের লালপুর উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় শাবনুর খাতুন (২৭) নামের এক নারী ও আরিফুল ইসলাম (৩৮) নামের এক সিএনজিচালকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১০ মে ২০২৬) সকালে উপজেলার নাগদহ চংধুপইল গ্রাম থেকে ওই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিন দুপুরে লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে ডুবে মারা যান সিএনজিচালক আরিফুল ইসলাম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাগদহ চংধুপইল গ্রামের বাসিন্দা মো. ছাদিকুর রহমান বিশ্বাসের মেয়ে শাবনুর খাতুন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। নিহতের বাবা জানান, রোববার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে খাবার খেয়ে শাবনুর নিজ কক্ষে যান। পরে সকাল ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের তীরের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়। দ্রুত তাকে নিচে নামানো হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
অন্যদিকে, উপজেলার উত্তর লালপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আকবর আলীর ছেলে আরিফুল ইসলাম মাছ চাষের জন্য স্থানীয় শ্রী সুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুর লিজ নিয়েছিলেন। রোববার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে তিনি পুকুরে নেমে আগাছা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পুকুরের গভীর পানিতে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করলে তিনি মৃত ছিলেন।
এ ঘটনায় আরিফুল ইসলামের ভাই মো. আসকান আলীর লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, দুটি ঘটনাকেই অপমৃত্যু হিসেবে ধরে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ/ উপসম্পাদক /প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/১০-০১