শুক্রবার | ৩ জুলাই, ২০২৬ | ১৯ আষাঢ়, ১৪৩৩

শিরোনাম
বনপাড়া পৌরসভায় ৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন শিশুধর্ষণের মূল কারণ অবাধ পর্ণো ও নিয়ন্ত্রণহীন মাদক বোর্ডের হস্তক্ষেপে এইচএসসি পরীক্ষায় ফিরছে লালপুরের ৮ শিক্ষার্থী রূপপুর পারমাণবিকে পূর্ণাঙ্গ জরুরি ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন বড়াইগ্রামে বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্য উদ্ধার করেছে বিভাগীয় গোয়েন্দা টিম বড়াইগ্রামে ৪টি নিষিদ্ধ চায়না রিং জাল উদ্ধার কারিগরি ত্রুটির কারণে লোডশেডিং- সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী আহম্মেদপুর সাব জোনের এক দিনের আখ চাষী প্রশিক্ষণ-২০২৬ কর্মশালা প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা

শিশুধর্ষণের মূল কারণ অবাধ পর্ণো ও নিয়ন্ত্রণহীন মাদক

-প্রফেসর ড. মো: ফখরুল ইসলাম।
গত ২২ মে ২০২৬ রাতে টিভিতে খবর দেখার সময় আমাদের বসার ঘরে বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিল। খবরের শুরুটা হলো শিশু রামিসা ধর্ষণ ও লোমহর্ষক হত্যাকান্ড নিয়ে। পরের খবরটাও চট্টগ্রামের শিশু ধর্ষণ সংক্রান্ত। তার পরেরটাও ভাইবোনের মধ্যে কেলেঙ্কারী সংক্রান্ত। সারা দেশ আজ এসব নির্মম ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গৃহিনী নারী,ছাত্র-ছাত্রী ও শিশুরাও মিছিল নিয়ে প্রতিবাদে শামিল হয়ে রাজপথে নেমে পড়েছে। টিভিতে এসব দেখে একজন মন্তব্য করল স্মার্টফেনে সারা দিনরাত অশ্লীল কনটেন্ট দেখে দেখে কিছু মানুষ বিগড়ে যাচ্ছে। আরকজন তার কথার প্রতিউত্তর দিয়ে বলল, আরে শুধু ওটা নয়। মূল কারণটা হলো মাদক সেবন করা। খবরে শুনলে না, রামিসাকে বাথরুমে আটকানোর আগে লোকটা ইয়াবা খেয়েছিল!
ওদের ভাষ্য শুনে মনে হলো তাইতো। শিশু ধর্ষণ ও হত্যার কারণগুলো তো খবরেই বলে দেয়া হয়েছে। ধর্ষণকারী গ্রেপ্তারও হয়েছে। তাহলে দ্রুত বিচার ও শস্তি হচ্ছে না কেন? আমার কাছেও ওদের কথার যুক্তি শুনে মনে হলো, ফায়ারওয়ালবিহীন অবাধ ইন্টার নেটের অশ্লীল ভিডিও, গেম, রিল এবং অনলাইনে মাদক কেনা-বেচা, সেবন তথা মাদকের সহজলভ্যতা এসব অপরাধের পেছনে সবচেয়ে বেশী দায়ী। আমাদের চিরায়ত সামাজিক মূল্যবোধকে পিষে মেরেরদুত পারিবারিক ও সামাজিক ভাঙ্গনন সূচিত করার পেছনে পর্ণো ও মাদক আকাল দৈত্য হয়ে হাতে হাতে, ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে।
শিশুধর্ষণ আজ বাংলাদেশের সমাজে সবচেয়ে আতঙ্কজনক অপরাধগুলোর একটি। প্রায় প্রতিদিন স্মার্ট ফোন বা সংবাদপত্র খুললেই কোথাও না কোথাও শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন কিংবা হত্যার খবর চোখে পড়ে। এই ঘটনাগুলো শুধু আইনশৃঙ্খলার অবনতি নয়; এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রণহীন মাদকের ভয়াবহ বিস্তারের সম্মিলিত ফল।
বাংলাদেশে শিশুধর্ষণের ঘটনাকে এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ হিসেবে ধরা হয় না। এখন এটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন কিংবা হত্যার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। কোথাও স্কুলছাত্রী, কোথাও মাদ্রাসার বালক শিশু, কোথাও প্রতিবেশীর ঘরে খেলতে যাওয়া ছোট্ট শিশু, কেউ নিরাপদ নয়। কেন একজন মানুষ এতটা নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে যে একটি শিশুকেও যৌন লালসার শিকার বানাতে দ্বিধা করছে না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে দুটি বিষয় বারবার সামনে আসে, মুঠোফোনে সহজলভ্য পর্ণোগ্রাফি এবং নিয়ন্ত্রণহীন মাদক।
একসময় অশ্লীল কনটেন্টে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট মাধ্যম বা গোপন জায়গা প্রয়োজন হতো। এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। স্মার্টফোন ও সস্তা ইন্টারনেটের কারণে পৃথিবীর যেকোনো ধরনের ভিডিও, ছবি বা কনটেন্ট কয়েক সেকেন্ডে হাতের মুঠোয় চলে আসছে। একটি শিশুও আজ মোবাইল ফোনে এমন সব কনটেন্ট দেখতে পারছে, যা তার মানসিক বিকাশের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। শুধু শিশু নয়, কিশোর-তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের বড় একটি অংশও নিয়মিত পর্ণোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে।
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট মানুষের হাতের মুঠোয় পুরো পৃথিবী এনে দিয়েছে। প্রযুক্তির এই অগ্রগতি যেমন আশীর্বাদ, তেমনি এর অপব্যবহার ভয়াবহ বিপদও তৈরি করেছে। কয়েক বছর আগেও পর্ণোগ্রাফি দেখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বা গোপন মাধ্যম প্রয়োজন হতো। এখন একটি স্মার্টফোন থাকলেই কয়েক সেকেন্ডে যেকোনো ধরনের অশ্লীল ও বিকৃত যৌন কনটেন্টে প্রবেশ করা যায়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব কনটেন্ট শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; কিশোর-তরুণরাও সহজেই এর শিকার হচ্ছে।
অনলাইন পর্ণোগ্রাফি মানুষের যৌন আচরণ ও চিন্তাকে বিকৃত করে। নিয়মিত পর্ণো দেখা মানুষের মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক যৌন উত্তেজনা তৈরি করে এবং বাস্তব সম্পর্কের প্রতি অসন্তোষ বাড়ায়। ধীরে ধীরে একজন ব্যক্তি স্বাভাবিক বিষয় থেকে বিকৃত ও নিষ্ঠুর যৌন আচরণের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করছেন যে, অতিরিক্ত পর্ণোগ্রাফি মানুষের সহানুভূতি কমিয়ে দেয় এবং অন্যকে মানুষ নয় বরং ভোগের বস্তু হিসেবে দেখতে শেখায়। যখন একজন মানুষ নারীকেও মানুষ হিসেবে নয়, কেবল যৌন বস্তু হিসেবে দেখতে শুরু করে, তখন শিশু পর্যন্ত নিরাপদ থাকে না।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশুধর্ষণের অভিযুক্তরা নিয়মিত পর্ণোগ্রাফিতে আসক্ত। তারা বিশেষ করে বিকৃত ও সহিংস যৌন কনটেন্ট দেখে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাস্তব জীবনে সেই বিকৃত কল্পনাকে প্রয়োগ করার চেষ্টা থেকেই তারা শিশুদের টার্গেট করে। কারণ শিশু দুর্বল, সহজে ভয় পায় এবং প্রতিবাদ করতে পারে না। এভাবে পর্ণোগ্রাফি মানুষের ভেতরের পশুত্বকে উসকে দেয়।
তবে শুধু পর্ণোগ্রাফি নয়, নিয়ন্ত্রণহীন মাদক এই সমস্যাকে আরো ভয়ংকর করে তুলছে। ইয়াবা, আইস, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক এখন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সহজলভ্য। অনেক তরুণ রাত জেগে মাদক গ্রহণের পাশাপাশি পর্ণো দেখে। এই দুটি বিষ একসঙ্গে মানুষের বিবেক, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিকতাকে ধ্বংস করে দেয়। মাদকাসক্ত অবস্থায় মানুষ নিজের আচরণের উপর নিয়ন্ত্রণ হারায়। তখন সে ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
বিশেষ করে ইয়াবা ও সিনথেটিক মাদক মানুষের মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক উত্তেজনা তৈরি করে। দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণ করলে যৌন বিকৃতি, হিংস্রতা ও নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ বাড়ে। ফলে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি সহজেই ধর্ষণ, নির্যাতন বা হত্যার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বহু ঘটনায় দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদকাসক্ত ছিল অথবা ঘটনার সময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। এটি কাকতালীয় নয়; বরং ভয়ংকর বাস্তবতা।
আজকের সমাজে আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পর্নোগ্রাফি ও মাদককে অনেক তরুণ স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। বন্ধুমহল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কিছু ওয়েব সিরিজ ও অনলাইন কনটেন্ট এমন এক সংস্কৃতি তৈরি করছে, যেখানে অশ্লীলতা ও নেশাকে আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ফলে অনেক কিশোর খুব অল্প বয়সেই এই জগতে ঢুকে পড়ে। প্রথমে কৌতূহল, পরে
অভ্যাস, এরপর আসক্তি, এই ধাপগুলো অতিক্রম করে একজন তরুণ ধীরে ধীরে মানসিকভাবে বিকৃত হয়ে যায়।
অনেক পরিবারে বাবা-মা কর্মব্যস্ত। সন্তান ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোনে কী দেখছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী ধরনের কনটেন্ট গ্রহণ করছে, এসবের উপর নজরদারি নেই। শিশুর হাতে অবাধে স্মার্টফোন তুলে দেওয়া হলেও তার ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে খুব কম পরিবারই সচেতন। ফলে অল্প বয়সেই শিশুরা পর্ণোগ্রাফির সংস্পর্শে চলে আসছে, যা তাদের মানসিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একদিকে পর্ণোগ্রাফি যৌন বিকৃতি তৈরি করছে, অন্যদিকে মাদক আত্মনিয়ন্ত্রণ ধ্বংস করছে। এই দুইয়ের মিলিত প্রভাব সমাজে ভয়াবহ অপরাধের জন্ম দিচ্ছে। শিশুধর্ষণ তার সবচেয়ে ভয়ংকর উদাহরণ। অনেক অপরাধী ধর্ষণের পর শিশুকে হত্যা পর্যন্ত করে ফেলে। কারণ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, বাস্তবতা বুঝতে পারে না এবং প্রমাণ মুছে ফেলতে চায়। এভাবে একটি অপরাধ আরেকটি অপরাধের জন্ম দেয়।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা অনেক সময় সমস্যার মূল কারণ নিয়ে আলোচনা না করে শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষোভ প্রকাশ করি। ধর্ষণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ হয়, মৃত্যুদণ্ডের দাবি ওঠে, কিন্তু কিছুদিন পর সবকিছু আবার আগের মতো হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্রকে কঠোর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ডিজিটাল মনিটরিং প্রয়োজন। শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে হবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে অশ্লীল ও সহিংস কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জরুরি। শুধু ওয়েবসাইট বন্ধ করলেই হবে না; সচেতনতা তৈরিও প্রয়োজন। তরুণদের বোঝাতে হবে, পর্ণোগ্রাফি কোনো বিনোদন নয়; এটি মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির বড় উৎস।
দ্বিতীয়ত, মাদকের বিরুদ্ধে বাস্তবিক জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করতে হবে। শুধু ছোটখাটো বিক্রেতা নয়, বড় মাদক চক্র, সীমান্ত সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ যতদিন মাদক সহজলভ্য থাকবে, ততদিন সমাজে সহিংসতা ও যৌন অপরাধ কমানো কঠিন হবে।
তৃতীয়ত, পরিবারকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সন্তানকে শুধু দামি ফোন বা ইন্টারনেট দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তার মানসিক জগৎ, বন্ধুমহল ও অনলাইন অভ্যাস সম্পর্কে জানতে হবে। শিশুকে ছোটবেলা থেকেই নৈতিক শিক্ষা, আত্মসম্মান ও নিরাপত্তাবোধ শেখাতে হবে।
চতুর্থত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, ডিজিটাল নৈতিকতা, মাদকের ক্ষতি এবং যৌন অপরাধের ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। তরুণদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে তারা বিপথে না যায়।
শিশুধর্ষণ, এটি মানব সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ। একটি শিশু যখন ধর্ষণের শিকার হয়, তখন শুধু তার শৈশব নয়, পুরো সমাজের বিবেক আহত হয়। আমরা যদি সত্যিই এই ভয়াবহতা থামাতে চাই, তবে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কারণ নিয়ন্ত্রণহীন মাদক মানুষকে মানুষ থেকে পশুতে পরিণত করছে।
টিভিতে একইদিনে চার-পাঁচটি ধর্ষণের ঘটনার সংবাদ আমাদের জন্য শেষ সতর্কবার্তা হওয়া উচিত। এখনো যদি আমরা না জাগি, তবে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব পালনের প্রথম শর্ত হলো, মাদকের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান।
* প্রফেসর ড. মো: ফখরুল ইসলাম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডীন। E-mail: [email protected]

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.