ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং কার্যক্রম নিয়ে ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত আজকের পত্রিকা-র একটি প্রতিবেদনে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (NPCBL)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছানের বক্তব্য প্রসঙ্গবিচ্ছিন্ন এবং প্রযুক্তিগতভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে পত্রিকাটির সম্পাদক বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ (Rejoinder) পাঠিয়েছে বলে সোমবার (১৯ জুলাই) এনপিসিবিএল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, প্রতিবেদনে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য আংশিকভাবে উদ্ধৃত (quoted out of context) হওয়ায় বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে এবং এতে সাধারণ পাঠকের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবাদে উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেদনে প্রকাশিত “এমন কিছু ভালভ আছে, যেগুলোতে ত্রুটি ধরা পড়লে দুই সেকেন্ডের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হয়”—এ ধরনের উপস্থাপনা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মূল বক্তব্য নয় এবং প্রকৌশলগতভাবেও সঠিক নয়।
এনপিসিবিএল জানায়, প্রকৃত বক্তব্য ছিল—কিছু Safety Valve ও Safety-related Equipment-এর Design Response Time কয়েক সেকেন্ড বা তারও কম নির্ধারিত থাকে। কমিশনিং পরীক্ষার সময় এসব যন্ত্রকে নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Automatically) সাড়া দিতে হয়। এখানে কোনো ব্যক্তি, অপারেটর বা প্রকৌশলীকে দুই সেকেন্ডের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়—এমন কথা বলা হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, কোনো যন্ত্রাংশ নির্ধারিত Design Response Time পূরণ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কমিশনিং পরীক্ষা সফল (Pass) হিসেবে গণ্য হয় না। প্রয়োজনীয় সমন্বয়, মেরামত বা যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপনের পর পরীক্ষাটি পুনরায় সম্পন্ন করা হয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পারমাণবিক কমিশনিং প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ।
কমিশনিং পরীক্ষার সময়কাল সম্পর্কেও প্রতিবেদনের ব্যাখ্যাকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছে এনপিসিবিএল। প্রতিবাদে বলা হয়, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল—প্রতিটি কমিশনিং পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন ও মূল্যায়ন না করে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা দায়িত্বশীল হবে না। এর অর্থ কমিশনিং কার্যক্রম অনির্দিষ্টকাল চলবে—এমন নয়।
প্রতিবাদে আরও বলা হয়, বাস্তবে কোনো পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না এলে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অল্প সময়ের মধ্যে, অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী দিনেই, পরীক্ষাটি পুনরায় সম্পন্ন করা হয় এবং কমিশনিং কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলে।
এনপিসিবিএল তাদের ব্যাখ্যায় কমিশনিংয়ের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মূল নীতিও তুলে ধরে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং দর্শন হলো—Test → Evaluation → Rectification (যদি প্রয়োজন হয়) → Repeat Test → Acceptance। কোনো পরীক্ষা পুনরায় সম্পন্ন হওয়া ব্যর্থতার লক্ষণ নয়; বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসারে কেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করার বাধ্যতামূলক ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
প্রতিবাদপত্রে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাংলাদেশের একটি জাতীয় কৌশলগত অবকাঠামো প্রকল্প উল্লেখ করে প্রযুক্তিগত বিষয়ে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য যাচাই করারও অনুরোধ জানিয়েছে এনপিসিবিএল।