রবিবার | ১৯ জুলাই, ২০২৬ | ৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

শিরোনাম

লালপুরে লাম্পিতে আক্রান্ত প্রায় ২০ হাজার গরু

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নাটোরের লালপুরে গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) রোগের প্রকোপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারি ও কৃষকেরা। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরকারি টিকার সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে অভিযোগ তাদের। শুক্রবার (১৮ জুলাই) উপজেলা ঘুরে খামারি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লালপুরে প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬১২টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার গরু এলএসডিতে আক্রান্ত হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৩৬টি গরু মারা গেছে। তবে এ রোগে খামারিদের মোট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর।
উপজেলার অমৃতপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন জানান, তার একটি গরু ১৫ দিন ধরে লাম্পিতে আক্রান্ত। চিকিৎসা চললেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।
একই গ্রামের আজিমউদ্দিন (৪০) জানান, তার দুটি গরু আক্রান্ত হয়েছিল। এর মধ্যে একটি মারা গেছে যার মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা।
স্থানীয় পশুচিকিৎসক মো. দেলোয়ার হোসেন ও আ. মমিন জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এলএসডির ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চিকিৎসায় অধিকাংশ গরু সুস্থ হলেও বাছুরের মৃত্যুহার তুলনামূলক বেশি। বিলমাড়িয়া, দুড়দুড়িয়া ও আড়বাব ইউনিয়নে প্রায় ২০টি গরু মারা গেছে বলে জানান তারা। তবে আল আমিন নামের এক পশুচিকিৎসক দাবি করেছেন যে, শুধু বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের পদ্মার চরে প্রায় একশত গরু লাম্পিতে মারা গেছে।
এদিকে অনেক খামারি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে সময়মতো সরকারি টিকা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
উধনপাড়া গ্রামের কৃষক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, হাট থেকে একটি বাছুর কেনার তিন দিন পর লাম্পি দেখা দেয়। অসুস্থ গরু যাতে হাটে বিক্রি না হয় সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল্লাহ জানান, চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার ডোজ এলএসডি টিকার চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩৫০ ডোজ, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। তবে খামারিদের প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করে বেসরকারিভাবে প্রায় ২০ হাজার ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার সরকারি এক হাজার ডোজ টিকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও ৯ হাজার ডোজ টিকা পাওয়া যাবে। ইতোমধ্যে মেডিকেল টিম গঠন করে আক্রান্ত এলাকায় চিকিৎসা ও পরামর্শ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বর্তমানে রোগের প্রকোপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত গরুকে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে। এছাড়া আক্রান্ত গরুকে খাবার সোডা ও নিমপাতা একসঙ্গে বেটে খাওয়ালে এবং ঘাঁয়ে লাগালে উপকার পাওয়া যায়। পাশাপাশি লেবু খাওয়ানো যায়।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের ট্রান্সবাউন্ডারি অ্যানিমেল ডিজিজ রিসার্চ সেন্টারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোছা. নাজিয়া আক্তার জানান, ক্যাপ্রিপক্স ভাইরাসের সংক্রমণে এলএসডি রোগ হয়, যা মূলত মশা ও মাছির মাধ্যমে ছড়ায়। শীতের শেষে সময়মতো টিকা দিলে এ রোগ সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি গরুর আবাসস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, মশা-মাছি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন হলে মশারি ব্যবহার করতে হবে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহ বলেন, অসুস্থ গরু বিক্রি বা জবাইয়ের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ/ উপসম্পাদক /প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/১৯-০১

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.