
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের বড়াইগ্রামের কুমারখালী আহমদিয়া দাখিল মাদরাসা এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ২০ জন পরীক্ষার্থী। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক কর্মচারী মিলে আছেন ২০ জন। তবে ওই ২০ জনের কেউই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানের প্রধানের দির্ঘদিন অনুপস্থিতিকে এ অবস্থার জন্য দায়ী করছেন অনেকেই।
শুধু কুমারখালী আহমদিয়া দাখিল মাদরাসা নয় উপজেলায় আরও দুইটি মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষার্থীই এবার দাখিল পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়গুলো হলো আটুয়া দাখিল মাদরাসা ও কুমরুল দাখিল মাদরাসা ।
২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল সোমবার প্রকাশ করা হয়। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বোর্ডে ২২৬টি মাদ্রাসা শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে বড়াইগ্রামের তিনটি মাদ্রাসা রয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কুমারখালী আহমদিয়া দাখিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যৗল্প প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক কর্মচারী দিয়ে রয়েছে ২০জন।
প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক রঞ্জু হোসেন বলেন, মাদ্রাসায় যাওয়ার রাস্তা-ঘাট না থাকা, মেয়েদের বাল্যবিবাহ এবং ছেলেদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। উপজেলা শহর থেকে মাদ্রাসার প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। ভালো শিক্ষার্থীদের অনেকে উচ্চ বিদ্যালয়ে বা উন্নত প্রতিষ্ঠানে চলে যায়। এসব কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মানও ধরে রাখা যাচ্ছে না।
একই চিত্র দেখা যায়, আটুয়া ও কুমরুল দাখিল মাদ্রাসায়। সরকার থেকে পাঠদানের স্বীকৃতি পেলেও মাসিক বেতন-ভাতা সুবিধার আওতায় আসেনি (নন-এমপিও) আটুয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৮ জন ও কুমরুল দাখিল মাদরাসা থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তারা সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
কুমারখালী গ্রামের বাসিন্দা মহসিন আলম বলেন, কুমারখালী আহমদিয়া দাখিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আহমাদ উল্লাহর বছরের অধিকাংশ দিনই প্রতিষ্ঠানে আসেন না। বাজারে বা বাড়িতে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বারবার জানিয়েও কোন কিছু না হয় নাই। যার কারনের এই প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করতে পারে নাই।
মাওলানা আহমাদ উল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাশ না করার কারনে এই ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়ীত্ব) সেলিম আকতার বলেন, এই তিন প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ না করা দু:খজনক। উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, কোন প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়াটা দু:খজনক। এসব প্রতিষ্ঠানে তদারকি বাড়িয়ে আগামীতে তারা যেন ভাল ফলাফল করতে পারে সে উদ্যোগ নেয়া হবে।