
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নাটোরের লালপুরে প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬)।
এ উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামের বাড়ি, লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট হাইস্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে স্মরন সভা, ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে ফারজানা শারমীন পুতুল।
দলীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার গৌরিপুর গ্রামে ১৯৪৯ সালে ২৪ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন ফজলুর রহমান পটল। তিনি নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে চার মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত ও জেলার প্রথম মন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
বাবা মরহুম আরশাদ আলী (লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ছিলেন) এবং মাতা ফজিলাতুন নেছা। পাঁচ ভাই ও এক বোনের পরিবারে তিনিই ছিলেন সবার বড়। তিনি পাবন-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ এডভোকেট আমিন উদ্দিনের ভাতিজা।
তিনি ১৯৮৪ সালের ১৪ মে কামরুন্নাহার শিরিনের (সাবেক অধ্যক্ষ) সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের বড় ছেলে ইয়াসির আরশাদ রাজন (লালপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক, একজন চিকিৎসক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি); ছোট ছেলে ইস্তেখার আরশাদ প্রতীক একজন ব্যবসায়ী; বড় মেয়ে ফারহানা শারমিন কাকন গৃহীনি এবং ছোট মেয়ে ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল (স্থানীয় সংসদ সদস্য, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী)।
তিনি লালপুর উপজেলার গৌরিপুরে প্রাথমিক ও গৌরিপুর উচ্চ বিদ্যালয় হতে অস্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। পরবর্তীতে পাবনার রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ১৯৬৭ সালে উচ্চ মাধ্যামিক পাস করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।
ফজলুর রহমান পটল ১৯৭৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ সালে তিনি মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি দীর্ঘ দিন বিএনপির প্রচার সম্পাদক ছিলেন। এরপর তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চার মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের শাসনামলে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হন, এরপর ১৯৯৩ সালে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনের পর চার দলীয় জোট সরকারের সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে তিনি লালপুরে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্টেডিয়াম, রাস্তাঘাট, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা উন্নয়ন মূলক কাজ করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রার্থী আবু তালহার নিকট পরাজিত হন। কিডনির জটিল রোগে রবীন্দ্র হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।