| |

শিরোনাম
প্রেমের ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, টাকা দাবি লালপুরে ভূমি অফিস-ইউপি কার্যালয়ে আবারও চুরি, ৯ মাসে ৫ দপ্তরে হানা মেয়ে সেজে ইতালি প্রবাসীকে বিয়ে, বাবা – ছেলে আটক বড়াইগ্রামে নিখোঁজের ৫ দিন পর পরিবহন শ্রমিকের লাশ উদ্ধার জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক’ নির্বাচিত হয়েছেন সেন্ট যোসেফসের অধ্যক্ষ শংকর ডমিনিক আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলনে ‘বেস্ট পোস্টার প্রেজেন্টার’ বাউয়েটের শিক্ষার্থী বড়াইগ্রামে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে রূপপুর: অভিযোগের নথিভিত্তিক জবাব দিল এনপিসিবিএল বড়াইগ্রামে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ঈশ্বরদী সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব

এই নেন আমাদের ৮০/৯০ দশক !

-আব্দুল হাই চৌধুরী শানু:
দুই দিন যাবৎ ফেসবুক গরম। AI দিয়ে ৮০/৯০ দশকের ছবি বানিয়ে সবাই বলছে—
“এই নেন আমাদের ৮০/৯০ দশক!”
‌দে‌খে দে‌খে মেজাজটাই খারাপ।
আরে ভাই, AI দিয়ে ৮০/৯০ দশক বানানো যায়, আমাদের ম‌তো এমন অ‌রি‌জিনাল ৮০/৯০ দশক বানানো যায় না।
এই নেন—আমাদের অরিজিনাল ছবি। No AI.
দাঁড়িয়ে—বাম থে‌কে Maruf Chowdhury মারুফ, Nasir Uddin Shastu শাস্তু , Lutfur Rohman লুৎফুর। বসে— আ‌মি সানু, Niazul Aziz জাবেদ, Dewan Fuad ফুয়াদ।
এই ছবির ফ্রেমে কয়েকজন আছে—কিন্তু ভাই, আমাদের গল্পে ছিল আরও অনেকজন।
ছবিতে নেই, অথচ আমাদের কৈশোরের প্রতিটি পাতায় ছড়িয়ে আছে কত বন্ধু! কারও সঙ্গে স্কুলের বেঞ্চ ভাগ করেছি, কারও সঙ্গে টিফিন; মাঠে একসঙ্গে দৌড়েছি, পরীক্ষার আগে একসঙ্গে ভয় পেয়েছি, আবার ফল প্রকাশের দিন একসঙ্গে আনন্দে চিৎকার করেছি।
হামিদ ভাইয়ের স্কুলের ঘণ্টা, সুধীর কাকার টিফিন, খেলার মাঠের সেই বিকেল, জীবন সংকেত, শংকর দার ঘটিগরম, বন্ধুর বাড়ির আড্ডা—আর বাল্যপ্রেমকে ঘিরে নানা গ্রুপিং, সেই সূত্রে কত বিচিত্র ‘রাজনৈতিক কর্মসূচি’! চায়ের দোকানে বসে কলেজের গল্প, ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বড় পরিকল্পনা—এসবই ছিল আমাদের সময়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
তখন মোবাইল ছিল না, Facebook ছিল না, Selfie ছিল না। ছিল চোখে চোখ রেখে কথা বলা, অকারণ আড্ডা, অভিমান, ঝগড়া—আর পাঁচ মিনিট পরেই আবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটা।
সময় আমাদের সবাইকে ছড়িয়ে দিয়েছে। কেউ দেশে, কেউ বিদেশে; কেউ খুব কাছে থেকেও দূরে চলে গেছে, কেউ আবার স্মৃতির ভেতরেই রয়ে গেছে। আর কেউ কেউ আজ আমাদের মাঝেও নেই—কিন্তু বিশ্বাস করুন, তারা কেউই আমাদের গল্প থেকে হারিয়ে যায়নি।
আজ ৯১ ব্যাচের WhatsApp গ্রুপে ৯১ জন বন্ধু যুক্ত। সংখ্যাটা হয়তো শুধু একটি সংখ্যা নয়—এটা আমাদের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর একেকটি জীবন্ত ঠিকানা। ছবির ফ্রেমে জায়গা হয়নি সবার। কিন্তু আমাদের স্মৃতির ফ্রেমে সবাই আছেন।
কেউ একটু ঝাপসা, কেউ স্পষ্ট; কেউ খুব কাছে, কেউ বহু দূরে। তবু সবাই মিলে আমরা সেই একই ৯১ ব্যাচ—একটি বয়স, একটি সময়, একগুচ্ছ পাগলামি, আর এক জীবনের সবচেয়ে নির্মল বন্ধুত্ব।
ছবিটা পুরোনো হয়েছে, আমরা বদলে গেছি—
কিন্তু সেই বন্ধুত্বের ভেতরের ছেলেমেয়েগুলো বোধহয় আজও কোথাও হারিয়ে যায়নি।
ছবির বাইরে থাকা প্রতিটি বন্ধুর জন্য আজ বুকের ভেতর থেকে একবার বলি—
তুই ছিলি, তুই আছিস, তুই থাকবি।
আমাদের গল্পে। আমাদের স্মৃতিতে। আমাদের ৯১-এ।
আজ AI পুরোনো পোশাক, চুলের স্টাইল, রাস্তা কিংবা স্কুলের ব্যাকগ্রাউন্ড বানিয়ে দিতে পারে।
কিন্তু বানিয়ে দিতে পারে না সেই বন্ধুত্ব, সেই বিকেল, সেই বয়স, সেই সময়।
তাই—
এই নেন আমাদের ৮০/৯০ দশক।
অরিজিনাল ছবি। অরিজিনাল মানুষ। অরিজিনাল বন্ধুত্ব।
ছবিটা ছোট,
কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে আমাদের একটা পুরো কি‌শোর জীবনের অ‌নেক গল্প।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.