
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নাটোরের লালপুরে আব্দুলপুর সরকারি কলেজে ফরম পূরণে প্রতারণার শিকার হয়ে এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্রে অংশ নিতে না পারা আট শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন পাস করেছেন। তাঁরা হলেন বিজ্ঞান বিভাগের ইসরাত জাহান সূচি ও মানবিক বিভাগের মো. শিমুল ইসলাম। শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় সূচি জিপিএ ৩.৪২ এবং শিমুল জিপিএ ২.৯২ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাকি ছয়জন অকৃতকার্য হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান।
সূচির বাবা ইমামুল হক বলেন, ‘আরও ভালো ফলাফলের আশা করেছিলাম। তবে প্রথম পরীক্ষা দিতে না পারায় পুরো সময়জুড়েই পরীক্ষা নিয়ে একধরনের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা ছিল। সে হিসেবে অনেক ভোগান্তির পর মেয়ে যে পরীক্ষা দিতে পেরেছে এবং পাস করেছে, এতেই খুশি।’
প্রসঙ্গত, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকারের কাছে ফরম পূরণের নামে প্রতারণার শিকার হন ৮ শিক্ষার্থী। ফলে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় গত ৩ জুলাই ২০২৬ শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্রে অংশ নিতে পারেননি তারা। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নজরে আসে। পরে তাঁর নির্দেশনায় বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। এতে তাঁরা দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকে বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
পরে ২৪ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১০টায় রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় অংশ নেন তাঁরা। শনিবার সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই সাথে তাঁদের ফলাফলও প্রকাশ করা হয়। এতে আটজনের মধ্যে দুজন উত্তীর্ণ হন।আব্দুলপুর সরকারি কলেজের পাসের হার ৩৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
এদিকে, উপজেলায় চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলায় এ বছর ১ হাজার ৯৯৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৬২৭ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। গড় পাসের হার ৩১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। মোট জিপিএ ৫ পেয়েছেন মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী। উপজেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাশের হার শূন্য। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মাঝগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, রাধা কান্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, নেংগোপাড়া দারুসুন্নাত আলিম মাদ্রাসা ও রায়পুর জাফরিয়া আলিম মাদ্রাসা। এর মধ্যে রাধা কান্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং নেংগোপাড়া দারুসুন্নাত আলিম মাদ্রাসায় গত বছরও পাশের হার শূন্য ছিল।
সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ / উপসম্পাদক/ প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/৩১-০১