
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দক্ষিণ কোরিয়াসহ উন্নত দেশগুলোতে বাংলাদেশের তরুণদের কাজের সুযোগ তৈরি হলে তা দেশের অর্থনীতি ও বেকারত্ব নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, ভাষাগত দক্ষতা, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, চাকরির চুক্তি, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের সম্ভাবনা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘স্টাডি অ্যাব্রড কনসালটেন্সি জিটি গ্রুপ’-এর উদ্যোগে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় নাটোরের লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে জিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান পার্ক জি ইয়ং, জিটি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহমুদুল হাসান মামুন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবীর হোসেন, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের জন্য বিদেশে কাজের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। তবে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে কোনোভাবেই যেন আমাদের যুবসমাজ প্রতারণার শিকার না হয় কিংবা আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যুবসমাজ দেশের সম্পদ। তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রেখে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। কর্মসংস্থানের উদ্যোগ যেন কোনোভাবেই তরুণদের জন্য ঝুঁকি বা দুর্ভোগের কারণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে যুবসমাজের আত্মকর্মসংস্থান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে এ ধরনের উদ্যোগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ সম্প্রসারণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।