
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নাটোরের লালপুরে এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনায় মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পুলিশ। রক্তের অভাবে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এক প্রসূতি মাকে বাঁচাতে নিজের রক্ত দিলেন থানার এক কনস্টেবল। তবে সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মায়ের গর্ভেই নিভে গেল নবজাতকের জীবন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) লালপুর উপজেলার একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ভর্তি করা হয় ওই নারীকে। জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন ছিল ‘এ পজিটিভ’ রক্ত। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও স্বজনরা রক্তের ব্যবস্থা করতে না পারায় সময় যেন ফুরিয়ে আসছিল। ধীরে ধীরে অবনতি হচ্ছিল প্রসূতির শারীরিক অবস্থা—চোখেমুখে ভর করছিল আতঙ্ক আর অসহায়ত্ব।
এমন সংকটময় মুহূর্তে শেষ ভরসা হিসেবে তারা যোগাযোগ করেন লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে। খবর পেয়ে দেরি করেননি তিনি। সহকর্মীদের মধ্যে রক্তদাতার খোঁজ শুরু করেন, আর সেই আহ্বানে সবার আগে সাড়া দেন কনস্টেবল (৭৩৩) মো. মমিনুজ্জামান।
সময় নষ্ট না করে দ্রুত ক্লিনিকে ছুটে যান তিনি। কোনো দ্বিধা ছাড়াই স্বেচ্ছায় রক্ত দেন। অবশেষে প্রয়োজনীয় রক্ত পেয়ে চিকিৎসকরা শুরু করেন অস্ত্রোপচার। সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন হলেও নির্মম সত্য—গর্ভেই হারিয়ে গেছে নবজাতকটি।
বর্তমানে প্রসূতি মা চিকিৎসাধীন থাকলেও আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ঘটনার পর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে প্রসূতির স্বজন শাজেদুল ইসলাম বলেন,
“আমরা যখন দিশাহারা হয়ে পড়েছিলাম, তখন পুলিশ ভাইয়েরা এগিয়ে এসেছেন। সন্তানকে হারিয়েছি, কিন্তু তাদের কারণে অন্তত মাকে ফিরে পেয়েছি। এই ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়।”
এ বিষয়ে ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,
“পুলিশ শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোও আমাদের দায়িত্ব। মা বেঁচে আছেন—এটাই আমাদের সান্ত্বনা। তবে নবজাতকের মৃত্যু আমাদেরও কষ্ট দিয়েছে।”
একদিকে সন্তানের অপূরণীয় ক্ষতি, অন্যদিকে মায়ের ফিরে পাওয়া জীবন—এই দ্বৈত অনুভূতির মাঝেই লালপুরের এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, মানবিকতার আলো এখনো নিভে যায়নি।
সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ /উপসম্পাদক /প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/২৬-০১