মঙ্গলবার | ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৫ বৈশাখ, ১৪৩৩

একটি স্পর্শ, দুটি জীবন – বেঁচে গেলেন বাবা, চলে গেল সন্তান

নিজস্ব প্রতিবেদক :
অটোরিকশাচালক মো. আল আমিন প্রতিদিনের মতোই নিজের বাড়িতে অটোরিকশা চার্জে দিয়ে পাশের ঘরে খাবার খেতে যান। কিছুক্ষণ পর বাইরে এসে দেখেন অটোর লাইট জ্বলছে। সেটি বন্ধ করতে গিয়ে বৈদ্যুতিক গোলযোগে তিনি বিদ্যুতায়িত হয়ে অসহায়ভাবে গোঙাতে থাকেন।
বাবার সেই আর্তনাদ শুনে ছোট্ট আব্দুল্লাহ আল আরাফাত ছুটে আসে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা না বুঝেই বাবাকে বাঁচানোর তাগিদে তাকে স্পর্শ করে সে। মুহূর্তেই নিজেও তীব্র বৈদ্যুতিক শকে আক্রান্ত হয় আব্দুল্লাহ। সঙ্গে সঙ্গে আনন্দমুখর একটি পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে এভাবেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিভে যায় আট বছরের শিশু আব্দুল্লাহর জীবন। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যায় নাটোরের লালপুর উপজেলার মোহরকয়া গ্রামে ঘটে এই মর্মান্তিক হৃদয়বিদারক ঘটনা। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।

আব্দুল্লাহর মা আছমা বেগম জানান, বাবা ও ছেলের চিৎকার শুনে বাইরে ছুটে এসে দেখেন তারা অটোরিকশার সাথে আটকে আছেন। এ সময় বাবা ও ছেলের বিদ্যুতায়িত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বন্ধ করে দেন। এতে আল আমিন ছিটকে পড়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকে শিশু আব্দুল্লাহ। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের একমাত্র সন্তান আব্দুল্লাহ স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের নার্সারি শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার হঠাৎ চলে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাবা-মা। বাড়ির উঠোনজুড়ে এখন শুধু কান্না আর শোকের মাতম।
লালপুর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অসচেতন বৈদ্যুতিক সংযোগ কতটা ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে একটি ছোট্ট শিশুর সাহসী কিন্তু মর্মান্তিক পরিণতি আবারও আমাদের মনে করিয়ে দিল।

সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ/ উপসম্পাদক/ প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/২৮-১

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.