
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নাটোরের লালপুরে তেল পাম্প ও ডিলার পয়েন্টগুলোতে তেল বিক্রিতে শতভাগ স্বছতা না থাকায় দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি শেষে তেল ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে অনেক গ্রাহককে। অথচ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খুব সহজেই কালোবাজারে ৩০০ টাকা লিটার পেট্রোল ও ১৭০ টাকা লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে এর সত্যতাও পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ফিলিং স্টেশন ও ডিলার পয়েন্ট থেকে বড় কন্টেইনার ও চোরাই পথে তেল সংগ্রহ করেন কালোবাজারিরা। এছাড়া ডিপো থেকে বেনামি এজেন্সির জন্য বরাদ্দ নিয়ে আসা তেল রাতের অন্ধকারে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে তেল পরিবহনে যুক্ত একটি চক্র। পরে সে সব তেল কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধভাবে মজুদ করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, স্থানীয় ডিলার পয়েন্টে সরকার নির্ধারিত মূল্য অমান্য করে প্রকাশ্যে ডিজেল ১৫০ – ১৭০ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রাতের অন্ধকারে বড় বড় ব্যারেলে করে তেল অন্যত্র পাচার করা হচ্ছে। পাইকপাড়া বাজারের এক ব্যবসায়ী (৪০) জানান, পাম্পে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় তেল পান না। পেট্রোলের অভাবে বাইক চালাতে না পেরে বাধ্য হয়ে কালোবাজারিদের থেকে ৩০০ টাকা লিটার পেট্রোল কিনেছেন। এছাড়া বিভিন্ন বাজার এলাকাতে মোটরসাইকেল নিয়ে এসে তেলের খোঁজ করলে চোরাকারবারিরা তেল বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।
রাতের অন্ধকারে তেলবাহী গাড়ি থেকে তেল সরবারাহের বিষয়ে মো. বাবু হোসেন (৪১) নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, গত এক মাসে লালপুর, বিলমাড়িয়া, দুড়দুড়িয়া, রহিমপুর হাজিরমোড়, উধনপাড়া গোরস্থান, পোড়াসাকো ও পাইকপাড়া এলাকায় একাধিকবার তেল সরবরাহ করেছে একটি চক্র। এ সব ক্ষেত্রে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী ও সরকার দলীয় কিছু কর্মীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানান তিনি। অবৈধভাবে তেল সংগ্রহ ও বিক্রির এমন তথ্য উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই পাওয়া গেছে।
এছাড়া লালপুর ফিলিং স্টেশন, সততা ফিলিং স্টেশন ও সাদিয়া ফিলিং স্টেশনে অবৈধভাবে তেল নেয়াকে কেন্দ্র করে একাধিকবার মারামারি ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি তেল বিক্রির সময় নিয়োজিত ট্যাগ অফিসারকে ম্যানেজ করে ডিলার ও পাম্প মালিকদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তেল বিক্রি ও মজুদ রাখার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে লালপুর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আ. রহিম বলেন, তেল নেয়ার সময় সিরিয়াল ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে অনেক সময় ধাক্কাধাক্কি হয়। সে গুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সামাল দেন। তবে অবৈধভাবে তেল বিক্রি ও মজুদের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। বিভিন্ন সময় জরিমানা করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সময় তিনি অবৈধভাবে তেল বিক্রি ও মজুদকারীর তথ্য দিতে সকলের প্রতি আহবান জানান।
সম্পাদনা: রাশিদুল ইসলাম রাশেদ/ উপসম্পাদক /প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/৩০-১