
নিজস্ব প্রতিবেদক:
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সবাই যেন নিরাপদে ও নিজেদের মতো করে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) রাতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নাটোরের লালপুর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি উপজেলার বুধপাড়ায় অবস্থিত ৫৯৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী মন্দির পরিদর্শন ও অফিস উদ্বোধন করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী মন্দিরের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় গুরুত্ব সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি দুর্গাপূজার সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন। তাঁর এ পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে বসবাস করবেন। প্রত্যেকে যেন নিরাপত্তার সঙ্গে নিজের ধর্মীয় উৎসব আনন্দ ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে পালন করতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থান বজায় রেখে উৎসব উদ্যাপনের পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
বুধপাড়ার ঐতিহ্যবাহী মন্দিরটি এলাকার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরটি স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এ ধরনের ঐতিহাসিক স্থাপনা এলাকার সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির ধারক হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় উৎসবের পরিবেশ ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো সম্পর্কে খোঁজ নেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও নিজ এলাকার সংস্কৃতি ও অতীত সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের সঙ্গে ছিলেন লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু এবং গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম। এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও প্রতিমন্ত্রী বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর, বাগাতিপাড়া, পৌরসভা, গালিমপুর, জামনগর এবং লালপুর উপজেলার ধুপইল, ওয়ালালিয়া, মধুবাড়ি, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস, গোপালপুর, জোতদৈবকি, লালপুর ত্রিমোহিনী, ভাটপাড়া মন্দির পরিদর্শন করেন।