
নিজস্ব প্রতিবেদক:
অনন্তকালের পথে পাড়ি জমালেন দেশের শিশুসাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক ও শব্দসৈনিক মুক্তিযোদ্ধা নাটোরের লালপুরের কৃতী আখতার হুসেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ১২.৪০ মিনিটে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর দুই ছেলে পান্থ হুসেন ও প্রমিত হুসেন এবং বোন বেনু খাতুন ও ভাই মাসুম হুসেন তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
আর কোনো দিন আখতার হুসেন লিখবেন না ছড়া, মায়াময় গল্প বা উদ্দীপনা জাগানো গান।
আখতার হুসেনের জন্ম ১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর। পৈত্তিক বাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। অনেক দিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তিনি দুই ছেলে, স্বজন-সুহৃদ ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আখতার হুসেন অনেক দিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। সর্বশেষ তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। শরীরে রক্তচাপও কমে গিয়েছিল। শারীরিক জটিলতার কারণে প্রথমে তাঁকে ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে বারডেম হাসপাতালে আনা হয়। এরপর তাঁকে গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে আবার নেওয়া হয় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি মাহমুদ সেলিম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত আখতার হুসেনের মরদেহ রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে রাখা হবে।
ছোট ছেলে প্রমিত হুসেন বলেন, বৃহস্পতিবার তেজকুনীপাড়ায় তাঁদের বাসভবনের কাছে রেলওয়ে কলোনি মসজিদে আখতার হুসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁর মরদেহ রাখা হবে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে নানার বাড়ি সিরাজগঞ্জে। বাবার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সিরাজগঞ্জের রহমতগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের পাশে বাবাকে দাফন করা হবে।
আখতার হুসেন
বাংলাদেশের অন্যতম পুরোধা শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন। জন্ম ১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর বর্তমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আমনুরায়। পিতা মরহুম টি আই এম সিকান্দার ও মাতা মরহুম আয়েশা খাতুন। স্ত্রী মল্লিকা আখতার। তাঁদের সন্তান প্রান্ত হুসেন ও প্রমিত হুসেন । পাঁচ ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। পৈতৃক নিবাস নাটোর জেলার লালপুর উপজেলাধীন নুরুল্লাপুর গ্রামে। তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার শব্দ সৈনিক গেজেটভুক্ত (ক্রমিক নং-১৮৩) একজন মুক্তিযোদ্ধা।
তাঁর শিক্ষাজীবন অতিবাহিত হয় খুলনা, আমনুরা, পাকশী, গফরগাঁও ও ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে। স্বশিক্ষিত মানুষ তিনি।
স্কুল-জীবনে বাষট্টির ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। গফরগাঁও থেকে তাঁর সাহিত্যজীবনের সূচনা দেয়ালপত্রিকা ‘উৎস’ প্রকাশ করার ভেতর দিয়ে। ১৯৬৪-১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের লৌহমানব আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে মিস জিন্নাহর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্যারোডি গান রচনা করে নিজে মাইকে তা গেয়ে মুখোশ উšে§াচন করেন আইউবি স্বৈরশাসনের। তিনি তখন পিতার কর্মস্থল কুলাউড়ায়। মিস জিন্নাহ কথিত মৌলিক গণতন্ত্রের নির্বাচনে পরাজয় বরণ করার পর দিনই আখতার হুসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হাতে হাতকড়া ও কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে আসা হয় সিলেটের মৌলবীবাজার জেলে। ২৭ জন আসামির মধ্যে তিনি ছিলেন এক নম্বর আসামি। ৭ দিন জেলখাটার পর জামিনে মুক্তি পান। কিন্তু মুক্তি পেলেও হয়রানিমূলক মামলা চলে ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন পর্যন্ত।
কুলাউড়া থেকে ঢাকায় আসেন তিনি ১৯৬৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর এক কাপড়ে। মাত্র সাড়ে ২৭ টাকা সম্বল করে। কিন্তু পাক্কা সাড়ে ছয় বছর তাঁকে প্রতি মাসে ঢাকা থেকে মৌলবীবাজার কোর্টে হাজিরা দিতে হতো। উল্লেখ্য, কুলাউড়াতে থাকতেই তাঁর প্রথম ছড়া ছাপা হয় অর্ধ সাপ্তাহিক ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকার ছোটদের আসরে।
ঢাকায় এসে মাস খানেক পত্রিকার হকারি করেন। থাকার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা ছিল না। মাস তিনেকের মাথায় তিনি ছোটদের মাসিক ‘রঙধনু’-তে চাকরি পান। সেখানে মাস দেড়েক চাকরি করার পর তিনি ১৯৬৬ সালে দৈনিক পত্রিকা ‘পয়গাম’-এর সংশোধনী বিভাগে চাকরি পান। কিন্তু তাঁর পিতা আইউব-মোনেম সরকারবিরোধী ট্রেড ইউনিয়ন করেনÑএই খবর কর্তৃপক্ষের গোচরে যাওয়ার পর সেখান থেকে এক বছরের মাথায় তাঁর চাকরি চলে যায়। তিনি এরপর যোগ দেন ওই বছরেই দৈনিক ‘আজাদ’ পত্রিকায় সহকারী ফিচার সম্পাদক হিসেবে। পাশাপাশি চলতে থাকে তাঁর খেলাঘর আন্দোলনকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার সক্রিয় প্রয়াস। ১৯৬৭ সালে তিনি নির্বাচিত হন ছাত্র ইউনিয়ন মহানগর শাখার সাংস্কৃতিক সম্পাদক। আইউব-বিরোধী ১৯৬৮-১৯৬৯-এর আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৬৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর জন্ম, তার ভ্রƒণের সঞ্চার হয় আখতার হুসেনের ভাড়া বাসার এক চিলতে কামরায়। এর পর তিনি ১৯৬৮ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত তিনি চাকরি করেন তৎকালীন সোভিয়েত দূতাবাসের তথ্য বিভাগে অনুবাদক-সম্পাদক হিসেবে। এছাড়া দৈনিক খবর, দৈনিক বাংলার বাণী, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক জনকণ্ঠে সহসম্পাদক ও সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৫ সালে সোভিয়েত দূতাবাসের কাজ সংকুচিত করার সরকারি চাপের মুখে কর্মচারী ছাঁটাই করা শুরু হয়। ফলে আখতার হুসেনসহ ২০ জন কর্মচারী চাকরি হারান একদিনে। উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধ চলার পুরোটা সময় আখতার হুসেন সোভিয়েত দূতাবাসে তথ্য বিভাগে চাকরি করেছেন এবং ডিপ্লোম্যাটিক ব্যাগে আসা অনেক গুরুত্বপূর্ণ চিঠি বা কাগজপত্র অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছে কৌশলে পৌঁছে দিয়েছেন। আশ্রয় দিয়েছেন নিজের ভাড়া করা রুমে বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে।
১৯৭৬ সালে আখতার হুসেন কেন্দ্রীয় উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর উদ্যোগে মাহমুদ সেলিম রচিত ও পরিচালিত গীতি-আলেখ্য ‘ইতিহাস কথা কও’-এর মহড়া ও মঞ্চায়নে সক্রিয় সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৬ সালে সিরাজগঞ্জের রহমতগঞ্জে তিনি বিয়ে করেন। দুই পুত্র সন্তানের জনক। তাঁর সহধর্মিণী মল্লিকা আখতার কিডনি-বিকল রোগে ২০১০ সালে মারা যান।
এরপর আখতার হুসেন দেশ ছেড়ে পশ্চিম জার্মানিতে চলে যান। চার বছর সেখানে নানা পেশাগত কাজে জড়িত ছিলেন। ফিরে আসেন ১৯৮১ সালে। এরপর তিনি পাক্ষিক ‘তারকালোক’, ‘দৈনিক বাংলার বাণী’, ‘দৈনিক খবর’, ‘পাইওনিয়ার প্রিন্টিং প্রেস’, ‘দৈনিক রূপালী’, দৈনিক ‘সংবাদ’, দৈনিক ‘জনকণ্ঠ’ ইত্যাদি পত্রিকায় সিনিয়ার সাব-এডিটর, সাহিত্য সম্পাদক, শিফট ইনচার্জ ও সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। প্রথমা প্রকাশনের জ্যেষ্ঠ পান্ডুলিপি সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন।
আখতার হুসেন এ দেশের পথনাটকের জনক। ১৯৬৯ সালে ২০ জানুয়ারি আইউববিরোধী গণঅভ্যুত্থানে আসাদ ও ২৪ জানুয়ারি কিশোর মতিউরের আত্মদানকে কেন্দ্র করে তিনি রচনা করেন ‘রক্তশপথ’ নাটক। এটি পুরো ১৯৬৯ সাল জুড়ে ঢাকা শহরের পথের মোড়ে মোড়ে এবং দেশের বহু অঞ্চলে মঞ্চস্থ হয়। এরপর তিনি আরও কয়েকটি পথনাটক রচনা ও পরিচালনা করেন। ১৯৭০ সালে তিনি রচনা করেন মঞ্চ নাটক ‘জীবনতরঙ্গ’। নাটকটির বিষয়বস্তু ছিল উল্লেখিত সালে দেশের উপকূলীয় এলাকা জুড়ে বিধ্বংসী জলোচ্ছ্বাসকে কেন্দ্র করে। মৃত্যু ও জীবনের জয়গানই ছিল নাটকটির মূল বিষয়। নাটকটি ঢাকার বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের মঞ্চে অভিনীত হয়েছিল। উদীচীর উদ্যোগে মঞ্চস্থ এই নাটকে অভিনয় করেছিলেন সংগঠনটির ভাই-বোনেরা। পরিচালক ছিলেন আখতার হুসেন এবং সংগীত পরিচালক ছিলেন একুশের গানের রচয়িতা শহীদ আলতাফ মাহমুদ।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই আখতার হুসেন আবার উদীচীর ব্যানারে পথনাটক নিয়ে পথে নামেন। সঙ্গে ছিল গানের স্কোয়াডও। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত অনেকগুলো পথনাটক তিনি রচনা, পরিচালনা ও মঞ্চস্থ করেন ঢাকার রাজপথ, অলিগলিসহ প্রায় সারা দেশে। এসবের মধ্যে তাঁর সাড়া জাগানো পথনাটক ছিল ‘সাচ্চা মানুষ চাই’, ‘পোস্টার’, ‘সামনে লড়াই’ ইত্যাদি।
আখতার হুসেন চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গেও জড়িত হয়েছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’র তিনি সংলাপ রচয়িতা ও চিত্রনাট্যকার। এছাড়া বেশ কয়েকটি বাণিজ্যসফল চলচ্চিত্রেরও চিত্রনাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতা তিনি। এর মধ্যে ‘নরমগরম’ সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।
তিনি যেমন বেশ কিছু জনপ্রিয় গণসংগীত রচনা করেছেন, তেমনি ছোটদের জন্যও রচনা করেছেন অনেক গান। একদিকে তিনি যেমন ছাত্র ইউনিয়নের (মতিয়া গ্রুপ) সংগঠন সংগীতের রচয়িতা, তেমনি খেলাঘরেরও সংগঠন সংগীতের রচয়িতা। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের পর পরই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত যে গানটি দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব ঘোষণা করা হয়, সেটির রচয়িতা/গীতিকার আখতার হুসেন। গানটির প্রথম দুটি চরণ, ‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে আজ জাগছে বাঙালিরা/ আর রুখবে তাদের কারা…/। গানটির সুর করেন অজিত রায়। সমবেত কণ্ঠে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রথম প্রচারিত হয়। আখতার হুসেন নাটোর জেলার একমাত্র গেজেটভুক্ত শব্দসৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা।
সব ছাপিয়ে আখতার হুসেনের প্রকৃত পরিচয় শিশুসাহিত্যিক হিসেবে। তাঁর প্রথম ছোটদের বই প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে। নাম ‘সমুদ্র অনেক বড়’। পাঠক মহলে সাড়া জাগায়। লাভ করে ইউনাইটেড ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার। তবে পুরস্কারের অর্থ ও পদক ভাগ্যে জোটেনি অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়ে যাওয়ায়।
তাঁর রচিত ছোটদের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ছড়া- ‘হৈ হৈ রৈ রৈ’, ‘উল্টোপাল্টা’, ‘সোনায় মোড়া ছড়া’, ‘একঘড়া ছড়া’ এবং বড়দের ছড়াগ্রন্থÑ‘হালচাল’।
কিশোর কবিতাÑ‘প্রজাপতি, ও প্রজাপতি’, ‘আমার দুটো ডানা’, ‘আকাশের হাতছানি’, ‘সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি’, ‘কাজে হব বড়’ এবং ‘মেলা মানেই অবাধ স্বাধীনতা’।
ছোটদের গল্পÑ‘সমুদ্র অনেক বড়’, ‘দি টাইগার ও অন্যান্য গল্প’, ‘রামধনুকের সাঁকো’, ‘নানা রঙের গল্প’, ‘যেতে যেতে যেতে’, ‘সেরা কিশোর গল্প’, ‘বাছাই কিশোর গল্প’, ‘কুট কুট কুট্টুস ফুট ফুট ফুট্টুস’, ‘সুখ নদী গাঁয়ের ঘুড়িগুলো’, ‘কালু এখন রাজা’, ‘খাতার পাতায় শেখার কথা’, ‘কালো কাক কত ভালো’, ‘হরিণ গেল আবার বনে’, ‘হইটি টইটি টই’, ‘ভালো কাজের সাথে’, ‘পথ মামা ও কাঠবেড়ালির ছানা’ ইত্যাদি।
ছোটদের উপন্যাসÑ‘ফ্রিডম ফাইটার’, ‘নায়ের ছোট্ট মাঝি’, ‘পাজি বেড়ালের শাস্তি’ এবং ‘কর্নকুসুম ও কালো পাখার প্রজাপতি’।
ছোটদের জীবনীÑ‘চারণ কবি মুকুন্দ দাস’, ‘জোয়ান অব আর্ক’, ‘কিশোর শহীদ মতিউর রহমান’, ‘ছোটদের মওলানা আবুল কালাম আজাদ’, ‘ছোটদের মণি সিংহ’ এবং ‘খোকা থেকে জাতির পিতা’।
এ ছাড়া অনুবাদ, পুনর্কথন ও সম্পাদনা করেছেন আরও কিছু বই। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘জাতকের সেরা গল্প’, ‘নাসিরুদ্দিন হোজ্জার ১০০ গল্প’, গোপাল ভাঁড়ের পাঁচ ডজন গল্প’, ‘রসের রাজা বীরবলের সেরা গল্প’, ‘ইউক্রেনের রূপকথা’, ‘ইংল্যান্ডের রূপকথা’ ও ‘উপদেশমূলক গল্প’।
বড়দের উপযোগী বইও তিনি লিখেছেন। সম্পাদনাও করেছেন। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্যÑ‘সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী গল্প’, ‘বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমের গান’, ‘দুই বাংলায় কবিতায় বঙ্গবন্ধু’, ‘দুই বাংলার মুক্তিযুদ্ধের কবিতা’, ‘বাংলা সাহিত্যের সেরা কিশোর কবিতা’ ও ‘হাবীবুর রহমান রচনাবলি’।
তাঁর সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ-‘জনকের মুখ, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা ছোটগল্প’।
সাহিত্যকৃতির স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্যÑআলাওল সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক শিশু সাহিত্য পুরস্কার, ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার স্মৃতিপদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ প্রদত্ত মুক্তিযোদ্ধা কলমসৈনিক সম্মাননা স্মারক, মনিরুদ্দীন ইউসুফ সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৯), বাংলাদেশ শিশু একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (২০০৭), জাগরণ গবেষণা ও শিল্পীগোষ্ঠী সম্মাননা (২০০৮), ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার স্মৃতিপদক (২০০৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (২০১১), অগ্রণী ব্যাংক শিশু একাডেমী শিশুসাহিত্য পুরস্কার (২০১১), এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার (২০১৪), বজলুর রহমান সম্মাননা স্মারক (২০১৪), কবীর চৌধুরী শিশু সাহিত্য পুরস্কার (২০১৫), বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পুরস্কার, আনন শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ আরও অনেক সম্মাননা ও সংবর্ধনা স্মারক। তিনি বাংলা একাডেমির ফেলো ছিলেন। তিনি ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন।