
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
কৃষির আধুনিকায়ন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষকদের সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে নাটোরের লালপুরে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় এ কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বরকত উল্লাহ’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড়।
তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় লালপুর উপজেলায় পাঁচটি কৃষক পার্টনার স্কুল গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি স্কুলে ১৫ জন করে কৃষক অংশগ্রহণ করছেন। এসব স্কুলে উন্নত কৃষি প্রযুক্তি, উচ্চ ফলনশীল জাতের সম্প্রসারণ, নিরাপদ ফল ও সবজি উৎপাদন, পুষ্টিবান্ধব কৃষি চর্চা এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আয় বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিকে আরও সহনশীল ও লাভজনক করে তোলাই এ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।
আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেন বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনজুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ, গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোলাম, এবি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবেদ আলী, কৃষক প্রতিনিধি কৌশিক আলম এবং কৃষাণী মোছা. শাপলা খাতুন।
বক্তারা বলেন, কৃষির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পুষ্টিকেন্দ্রিক কৃষি উৎপাদন এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি। এ ধরনের সমন্বিত কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং কৃষিখাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ/ উপসম্পাদক/ প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/১০-০১