রবিবার | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ | ৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

শিরোনাম
জীবিত থাকতেই অবসর ও কল্যাণ তহবিলের টাকা চাইলেন প্রধান শিক্ষক নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে দুর্ধর্ষ ডাকাতির রহস্য উদঘাটন, ডাকাতদলের ১৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার গুরুদাসপুরে আইনজীবীর বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তা জবরদখলের অভিযোগ পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু বড়াইগ্রামে ডাকাতির ঘটনায় ১৩ জন আটক, ট্রাকসহ লুন্ঠিত ইলেকট্রিক ব্যাটারি উদ্ধার চার মাস পর শুরু প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শিবির একটি স্বতন্ত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জেলা শিবির সভাপতি জাহিদ হাসান পদ্মার পাঙ্গাস বিক্রি হলো ২০ হাজার টাকায় লালপুরে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি মৃদু তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন বড়াইগ্রামে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ

বৃহস্পতির চাঁদেই কি এলিয়েনদের বসবাস!

-আনিশা আনজুম আবৃত্তি

ডেভিড, মিচেল, মার্ক তিনজন এক রেস্টুরেন্টে বসে চাওমিন খাচ্ছিলো, তখন তাদের সামনে টিভির একটি স্পোর্টস চ্যানেলে ফুটবল বিশ্বকাপ’২০২২ এর আয়োজক দেশ কাতারের অভাবনীয় কর্মজজ্ঞের বিশেষ প্রতিবেদন প্রচার হচ্ছিল। হঠাৎই মার্কের চোখ পড়লো টিভির পর্দায়। তারা দেখলো একটা বিশ্বকাপ আয়োজনে একটা কিনা করেছে। বিশ্বকাপ আয়োজনকে স্মরণীয় করে রাখতে, অনন্য উচ্চতায় নিতে কাতার সরকার ৮ টি নতুন স্টেডিয়াম তৈরি করেছে, অসংখ্য হোটেল মোটেল তৈরি করেছে এমনকি আরব সাগরের জলরাশির মাঝে নতুন একটি শহরই তৈরি করে ফেলেছে। মিচেল বলল, দারুণ না! হুট করেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো তিন বন্ধু ঘুরতে যাবে কাতারে। যেই বলা সেই কাজ। রেস্টুরেন্টে বসেই তারা কাতার যাওয়ার সিডিউল ঠিক করে ফেললো। পাঁচ দিন পরেই তাদের ফ্লাইট। তারা প্রথমে ধরলো দুবাইয়ের বিমান।

প্রথমে দুবাই তারপর দোহা। দুবাইয়ে তিন দিন কাটিয়ে তারপর ধরলো দোহার ফ্লাইট। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বদলে যাওয়া দোহার মোটামুটি সব জায়গায় বেড়ানো শেষ। তারা একদিন গেলো দুবাই শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে মরুভূমি আর আরব সাগরের মিলনস্থলে ধুধু মরুভূমির অনন্য এক সুন্দর জায়গাই। যাওয়ার সময় মরুভূমির সৌন্দর্য তাদের মুগ্ধ করে। এক সময়ই তারা পৌঁছে গেলো। সাগর উপকূলে তারা যখন আশেপাশের ছবি তুলছিল তখন তারা কি যেন একটা বিশাল গোলাকার যান দেখতে পেলো। তারপর তারা সেটার কাছে গেল। গিয়ে যা দেখল তার জন্য তারা প্রস্তুত ছিল না। গোলাকার যান থেকে অদ্ভুত প্রাণীর মতো বের হয়ে আসলো। পরে তাদের মনে পড়লো যে এই গোলাকার যান হলো ইউএফো আর অদ্ভুত প্রাণীগুলো হলো এলিয়েন বা ভিন্নগ্রহের মানুষ। সাহস করে আর তাদের কাছে যাওয়া হয়নি তিন বন্ধুর। ভয় পেয়ে ঐ স্থান ত্যাগ করে হাফাতে হাফাতে গাড়িতে উঠে সোজা হোটেলে। তারা যেন আকাশ থেকে পাতালে পড়লো! সে দৃশ্য তাদের চোখ থেকে সরাতেই পারছে না। তাদের মনে বার বার প্রশ্ন জাগছে সত্যিই তারা এলিয়েন দেখলো না অন্য কিছু? এ বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন ঘুমাতেই পারেনি। ঘুমের মধ্যেই তারা এলিয়েন দেখতে লাগলো।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে আসলেই কি আছে এই ভিন্ন গ্রহীপ্রণী বা এলিয়েন? অনেকে ভাবে এলিয়েন আছে আবার অনেকে ভাবে এগুলো আজগুবি। এ নিয়ে আছে অনেক অনেক মজার ঘটনা। নিকোলাস টেসলা। টেসলা বিশ্বের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের একজন। তিনি যখন কলোরাডো স্প্রিং এ ওয়ারলেস কমিউনিকেশন নিয়ে গবেষণা করছিলেন তখন তিনি তার এপেরেটাসের মধ্যে কিছু সিগনাল পান। যা পৃথিবীর কোনো সিগনালের সাথে মিলবে না তাই তিনি ভেবেছিলেন যেহেতু চাঁদ বা মঙ্গল আমাদের কাছে তাই এগুলোর কোনো একটা থেকে এই সিগনাল আসছে। কিন্তু এটা যখন তিনি বলেন তখন তাকে অনেক সমালোচনার শিকার হতে হয়। যারা টেসলাকে পছন্দ করতেন তারাও তাকে মুর্খ বলতে শুরু করেন। কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা প্রশ্ন করে না যে এলিয়েন আছে কিনা? এখন তারা প্রশ্ন করেন যে কবে মিলবে তার অস্তিত্ব? ন্যাটিংহাম ট্রেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক ড্যানিয়েল বাউন বলেন যে এখন তারা যে মহাকাশ মিশনগুলো পরিচালনা করেন তার উদ্দেশ্যে হলো সৌরজগতে প্রাণের অস্তিত্ব ও পৃথিবী সদৃশ গ্রহ খোজার জন্যই পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু এখন কথা হলো এলিয়েন কি শুধু পৃথিবী সদৃশ গ্রহেই থাকবে? না অন্য কোথাও? মোটেও না। এলিয়েন পৃথিবী সদৃশ গ্রহ ছাড়াও যেকোনো গ্রহে বা উপগ্রহে থাকতে পারে কারণ এলিয়েনের নিশ্চয় মানুষের মতো পৃথিবীতে সুযোগ সুবিধা দরকার হয় না। তা যাই হোক এখন সবচেয়ে বড় কথা হলো যে এলিয়েন আছে কিনা। ঐ যে বললাম এলিয়েন অন্য কোনো গ্রহেও থাকতে পারে। বিজ্ঞানী এক বড় অংশের ধারণা যে বৃহস্পতির মতো গ্যাসীয় বিশাল গ্রহের বরফাচ্ছাদিত চাঁদের সমুদ্রেও তো প্রাণের উদ্ভব ঘটতে পারে।

বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপাতেই মূলত প্রাণের অস্তিত্ব থাকার বিষয়টি মাথায় রাখা যায়। বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপাতে প্রাণের অস্তিত্ব খোজার জন্য একটি মহাকাশ যান যাবে যা আয়তনে অনেকটা এসইউভি গাড়ির মতো। এই Icy Moon Europa -তে মূলত অনুসন্ধান চালানো হবে যে আগে এখানে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কিনা বা আছে কিনা। আরও কারণ হলো আগামীতে তা মনুষ্য বসবাস যোগ্য হবে কিনা। কিন্তু বাস্তবে ইউরোপা একটি অজানা জগৎ, যাকে বিজ্ঞানীরা বলেছেন এলিয়েন ওয়ার্ল্ড। অনেক বিজ্ঞানীর মতে, এলিয়েন খোঁজ পাওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। কারণ বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে খুব তাড়াতাড়িই মিলবে এলিয়েনের খোঁজ। বৃহস্পতির জন্য এই অভিযান শুরু হবে ২০২৪ সালে। যার দায়িত্বে থাকবে নাসা। তারপরই আমারা নিশ্চিত জানতে পারবো সেই এলিয়েনের কথা। দেখা পাবো এলিয়েন বা ভিন্ন গ্রহের মানুষের। বিজ্ঞানীদের আগ্রহ আর কর্মকান্ড আমাদের মরে দারুণ আশা জাগাচ্ছে এলিয়েনদের অস্তিত্বের বিষয়ে। এ থেকে কি আমরা বলতে পারি, বৃহস্পতির চাঁদেই কি এলিয়েনদের বসবাস! এই সুযোগে আরো একটা কথা বলে রাখা ভালো যে, এখন এলিয়েন খোঁজার পাশাপাশি খোঁজা হচ্ছে মানুষের বসবাসের উপযোগী পৃথিবী ছাড়া অন্য কোন জায়গা; কারণ পৃথিবীর তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে তাতে আমাদের একদিন না এই পৃথিবী ছেড়ে চলেই যেতে হয় অন্য কোন গ্রহে, যেখানে সাচ্ছন্দে বসবাস করছে ভিন্নগ্রহী প্রাণী বা মানুষ। আর সেখানে আমাদের থাকতে হবে সেই এলিয়েনদের সাথেই।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.